Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে প্রমোটাররাজের মহিমা! যাদুবলে অবৈধ নির্মাণও বৈধ

বর্ধমানে প্রমোটাররাজের মহিমা! যাদুবলে অবৈধ নির্মাণও বৈধ
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বর্ধমান। একসময় রাজাদের শহরে নজর কাড়ত পুরনো বাড়ি। বনেদিয়ানার ছাপ ছিল সর্বত্র। পাড়ায় পাড়ায় সকাল-বিকেল চলত জমাটি আড্ডা। গৃহবধূরাও কাজ সেরে বিকেলে পাড়ায় জমিয়ে গল্প করতেন। সেই ছবি এখন বর্ধমান শহরে প্রায় বিরল। শুরু হয়েছে ‘ফ্ল্যাট কালচার’। পুরনো বাড়ি ভেঙে মাথা তুলছে বহুতল। গুরত্বপূর্ণ মোড় থেকে পাড়ার গলি সবর্ত্রই নজর প্রোমোটারদের। জমি কিনে রাতারাতি তৈরি হচ্ছে ছয় থেকে সাততলা বিল্ডিং। অনেক ক্ষেত্রেই তারা নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করছে না। নিয়ম না মেনেই শহরের সর্বত্র গ‌জিয়ে উঠছে আবাসন। চোখের সামনে অনিয়ম হতে দেখে মাঝেমধ্যে পুরসভা ময়দানে নামছে। কাউকে কাউকে নোটিসও দিচ্ছে। কিন্তু, কিছুদিন পর ফের জোরকদমে কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগেই এমন একটি ঘটনার সাক্ষী থেকেছে শহরবাসী। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে ঢলদিঘির কাছে একটি বহুতলের নির্মাণকাজ আটকে দেয় পুরকর্তৃপক্ষ। তা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। কিন্তু, ওই পর্যন্তই। তারপর ফের কাজ শুরু হয়েছে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, নীলপুর সহ বিভিন্ন জায়গাতেই এই অনিয়ম চলছে। প্রোমোটাররা খাতায়-কলমে কোথাও কোথাও তিন থেকে চারতলা বিল্ডিং তৈরির অনুমতি নিচ্ছে। অথচ বিল্ডিং হচ্ছে ছ’ থেকে সাততলা। দোতলা বাড়িয়ে নিতে পারলেই এক কোটির বেশি টাকা ঘরে চলে আসছে। 
Advertisement
শহরের বাসিন্দারা জানান, অবৈধভাবে নির্মাণের জন্য পুরসভা স্থায়ীভাবে কাজ বন্ধ করেছে, এমন নমুনা নেই। সব কিছুই লোক দেখানো চলছে। ছোট গলির মধ্যে ছ’তলা বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। আগুন লাগলে দমকলের ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছতে পারবে না। কীভাবে বিল্ডিং তৈরির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তা বুঝতে কারও সমস্যা হয় না। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, শহরে কয়েকটি পুকুর ভরাট করেও আবাসন হয়েছে। সেই বিল্ডিংগুলি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কলকাতার মতো যে কোনওদিন বর্ধমানে আবাসন ভেঙে পড়তে পারে। 
শহরের বাসিন্দাদের বক্তব্য, বর্ধমানে ফ্ল্যাটের দাম কলকাতা শহরতলির থেকেও বেশি। চাহিদা বেশি থাকার জন্যই শহরজুড়ে প্রোমোটারদের রমরমা শুরু হয়েছে। অবশ্য পুরকর্তৃপক্ষের দাবি, এই বোর্ডের আমলে আবাসন তৈরির অনুমতি দেওয়ার আগে সবকিছু দেখা হয়। কিন্তু, ২০১৮ সালে বেশকিছু প্রোমোটারকে আবাসন তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। সেগুলি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনুমতি থাকায় কাজ আটকানোও যাচ্ছে না। বাধা পেলে প্রোমোটাররা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। প্রায় ১০০টি অবৈধ নির্মাণ শহরে রয়েছে। 
বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, কোথাও অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে কয়েকটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। প্রয়োজনে আগামী দিনেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। (চলবে)
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ