Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান মেডিক্যালে রক্তের তীব্র সঙ্কট, হিমশিম কর্তৃপক্ষ

বর্ধমান মেডিক্যালে রক্তের তীব্র সঙ্কট, হিমশিম কর্তৃপক্ষ
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রক্তের সঙ্কট চলছে। সঙ্কট মেটাতে রাজ্য স্বাস্থ্যভবন থেকে রক্ত নিয়ে আসা হয়। সেই রক্ত শেষ হয়ে গেলেও সঙ্কট মেটেনি। তাই শিবিরের উপর জোর দিয়ে সঙ্কট মেটাতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বর্ধমান মেডিক্যালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত সঙ্কট চলছে। বেশ কয়েকটি গ্রুপের রক্ত মজুতের পরিমাণ শূন্যে পৌঁছেছে। রক্ত সঙ্কট মেটাতে শেষমেষ রাজ্যের স্বাস্থ্যভবনের দ্বারস্থ হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন কেন্দ্র সূত্রে জানানো হয়, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দৈনিক ৩০০-র বেশি নতুন রোগী ভর্তি হন। পূর্ব বর্ধমান ছাড়াও আশপাশের জেলা এমনকী পার্শ্ববর্তী রাজ্যের মানুষও চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসেন। এছাড়া হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮৯টি শিশুর জন্ম হয়। প্রসূতিদের চিকিৎসায় রক্তের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের রক্তের প্রয়োজন হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন গড়ে ৪৫ইউনিট রক্ত মজুত রাখে। বর্ধমান হাসপাতালে কেবলমাত্র থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য দৈনিক গড়ে ৩০-৩৫ ইউনিট রক্ত প্রয়োজন হয়। প্রতি শুক্রবার এই রক্তের চাহিদা বাড়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের হাল অত্যন্ত খারাপ। পাশাপাশি, এ পজিটিভ, এবি পজিটিভ ও পজিটিভ রক্তের স্টকও নেই। দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের রক্তদান শিবির না হওয়ায় রক্ত সঙ্কট প্রকট হয়েছে বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অনেক রক্তদাতা সংস্থা বিভিন্ন প্রলোভনের কারণে এখন বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে রক্ত দেওয়ার দিকে বেশি ঝুঁকছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের সমস্যা তীব্র হওয়ার পিছনে এটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি, এই সময়ে চাষের মরশুম চলায় গ্রামীণ এলাকায় রক্তদান শিবির কম হচ্ছে। শিবির হলেও তাতে রক্তদাতার সংখ্যা হচ্ছে হাতেগোনা। ডোনার এক্সচেঞ্জ করে সমস্যা সামাল দিচ্ছে হাসপাতাল। দেবব্রত দে নামে এক সেলুনকর্মী বলেন, বৃহস্পতিবার এক পরিজনের রক্তের প্রয়োজন হয়। হাসপাতাল ডোনার ছাড়া রক্ত দিতে পারেনি। তাই দোকান বন্ধ করে আমাকে রক্ত দিতে ছুটে আসতে হয়েছে। 
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, হাসপতালের অভ্যন্তরীণ রক্তের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই। তবে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে রক্তের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে রক্তের জোগান মিলেছে না। স্বাস্থ্যভবনে আবেদন জানানো হয়। সেখান থেকে সপ্তাহ তিনেক আগে ২৮৪ ইউনিট রক্ত মিলেছিল। সেই রক্তও শেষ। তাতেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। হাসপাতালের দাবি, বিভিন্ন সংগঠনকে সহযোগিতা করার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে। কয়েকটি ক্যাম্প হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও আরও ক্যাম্পের প্রয়োজন আছে। তাই সবাইকে এগিয়ে আসার আবেদন করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ