Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান মেডিক্যালে ভর্তি হলেই গুনতে হয় ৫০০! প্রসূতি ও মহিলা  ওয়ার্ডে আয়াদের দৌরাত্ম্য

বর্ধমান মেডিক্যালে ভর্তি হলেই গুনতে হয় ৫০০! প্রসূতি ও মহিলা  ওয়ার্ডে আয়াদের দৌরাত্ম্য
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান শহরে সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন বিক্রি করেন এক ব্যক্তি। কয়েকদিন আগে তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হন। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ছুটি দেওয়ার পর তাঁর কাছে হাজির হন কয়েকজন মহিলা। নিজেদের আয়া বলে দাবি করে। তারা ওই ব্যক্তির কাছে থেকে ৬০০টাকা দাবি করে। ওই ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি তাদের কাছে টাকা কমানোর আর্জি জানান। তারা কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না। অবশেষে ওই ব্যক্তি তার কাছে থাকা চারশো টাকা দিয়ে রেহাই পান। তিনি বলেন, আমার কাছে ৬০০টাকা ছিল না। ওরা জোর জবরদস্তি করতে থাকে। টাকা না দিলে রোগী ছাড়বে না বলে জানায়। পকেটে থাকা চারশো টাকা ওদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হই। 
Advertisement
এরকম ঘটনা শুধু তাঁর ক্ষেত্রেই নয়। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মহিলা বিভাগের চিকিৎসা করতে আসা অনেকেই এধরনের জুলুমবাজির শিকার হয়েছেন। প্রসূতি বিভাগে ভর্তি থাকা এক রোগীর স্বামী বলেন, স্ত্রীকে ছুটি দেওয়ার পরই ওরা ৭০০টাকা দাবি করতে থাকে। মিষ্টি খাওয়ার জন্য এই টাকা দিতে হবে বলে তারা জানায়। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। ওই টাকা আমাদের কাছে অনেকটাই। কিন্তু তারা জানিয়ে দেয় টাকা না দিলে ছাড়বে না। ওরা নাকি স্ত্রীকে শুশ্রূষা করেছে। আমরা কাউকে তা করতে বলিনি। 
তারপরও কেন তারা টাকা দাবি করছিল সেটা বুঝতে পারছিলাম না। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দাঁড়িয়ে পূর্ণিমা বাউরি নামে এক মহিলা বলেন, সরকার চিকিৎসার খরচ ফ্রি করে দিয়েছে। অথচ এই ধরনের জুলুমবাজি চলছে। হাসপাতালে গরিব লোকেরাই চিকিৎসা করতে আসে। তারা এত টাকা পাবে কোথায়? মিষ্টি খাওয়ার জন্য ৫০-১০০ টাকা দাবি করলে সেটা তবুও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু ৬০০-৭০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের বিষয়টি দেখা উচিত।
রোগীর আত্মীয়রা বলেন, কয়েক বছরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থার ভোল বদলে গিয়েছে। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন করা হচ্ছে। রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসকরাও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন করে নজর কেড়েছেন। কিন্তু এ ধরনের জুলুমবাজি কাদের মদতে চলছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। 
রোগীর পরিজনদের আরও অভিযোগ, আগের মতো হাসপাতালে দালালরাজ সক্রিয় নয় ঠিকই, কিন্তু তাদের দাপট এখনও কিছুটা রয়েছে। এখন তারা অন্য কৌশলে রোগীদের প্রতারিত করে। ভিনজেলা থেকে চিকিৎসা করতে আসা রোগীদের মগজধোলাই করে তারা নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অনেক রোগীর পরিবার তাদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। যাদের আর্থিক সমর্থ্য নেই তাদের অন্য কোনও উপায় নেই। তাদের আয়াদের খপ্পরে পড়তে হচ্ছে। মহিলা বিভাগের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তারা ছড়ি ঘোরাচ্ছে। হাসপাতালের এক আধিকবারিক বলেন, রোগীর আত্মীয়রা লিখিতভাবে অভিযোগ করলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এধরনের লিখিত অভিযোগ খুব বেশি জমা পড়ে না। এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই বর্ধমান ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মহিলারাও এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন। স্থানীয় কোনও রোগীর সঙ্গে জুলুমবাজি করলে তবুও তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু বাইরে থেকে আসা রোগীদের তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় থাকে না।
সম্পর্কিত সংবাদ