নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কালো আলুতে লুকিয়ে রয়েছে শরীর ভালো রাখার চাবিকাঠি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি খামারে চাষ হচ্ছে বিশেষ ধরনের পুষ্টিগুণে ভরা এই আলু। যা গত বছর অল্প এলাকায় চাষ করা হয়। সফলতাও পাওয়া গিয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে এই আলুর বীজ চাষিদের মধ্যে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। অধ্যাপক সব্যসাচী পাত্র বলেন, কালো আলুতে প্রচুর পরিমাণ ‘অ্যান্টি অক্সিডেন্ট’ রয়েছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ও ক্লান্তি দূর করে। অন্যান্য আর কী কী গুণ রয়েছে ও এই আলু সুগার ফ্রি কিনা তা নিয়েও গবেষণা চলছে। খোসার পাশাপাশি এই আলুর ভিতরের অংশও কালো। দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা। চন্দ্রমুখীর মতোই এই আলু চাষ করা যায়। এবছর ফলন দেখার পরে বীজ চাষিদের দেওয়ার টার্গেট রয়েছে।
Advertisement
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে জ্যোতি, পোখরাজ বা চন্দ্রমুখী আলুর চাষ অনেক দিন ধরেই হচ্ছে। সম্প্রতি হিমালিনী এবং কলম্বিয়া জাতীয় আলুর চাষ করা হচ্ছে। হিমালিনী দেখতে অনেকটা চন্দ্রমুখীর মতো। কিন্তু স্বাদে অনেক পিছিয়ে। কালো আলুর স্বাদ চন্দ্রমুখীর মতো না হলেও গুণ অনেক বেশি। বিহারের এক চাষি বিদেশ থেকে বীজ নিয়ে এসে প্রথম এই আলু চাষ করেন। পরে বিক্ষিপ্তভাবে অন্যান্য রাজ্যে কয়েকটি এলাকায় এই আলু চাষ হতে দেখা যায়। গত বছর হুগলির এক চাষি কম জায়গায় এই চাষ করেছিলেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানীরা গবেষণা শেষে চাষিদের এধরনের আলু চাষ করার পরামর্শ দেবেন। এক অধ্যাপক বলেন, কালো আলু নিয়ে চাষিদের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে তাদের খুব বেশি ধারণা নেই। ফলন বেশি হলে চাষিরা কালো আলুর দিকে ঝুঁকবে। হিমালিনী, কলম্বিয়ার মতো আলু পরীক্ষিত। এই দুই প্রজাতির চাষ বাড়ছে। হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো বিভিন্ন জায়গায় এধরনের প্রজাতির চাষ হচ্ছে। সোমবার থেকে চাষিদের জ্যোতির পাশাপাশি এধরনের আলু বীজ সরবরাহ করা হবে। কত দামে তা বিক্রি হবে বা চষিরা কত পরিমাণ সর্বোচ্চ বীজ পাবেন তা ওই দিন চূড়ান্ত করা হবে। তবে কালো আলুর বীজ এবছর চাষিদের দেওয়া হবে না। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছিল। এবারও নানা দিক দেখা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে পরের বছর বীজ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।



