Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ কোটি ৯৩ লক্ষাধিক টাকা গায়েব, সিআইডির জালে জড়াল আরও ২

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ কোটি ৯৩ লক্ষাধিক টাকা গায়েব, সিআইডির জালে জড়াল আরও ২
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বর্ধমান: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের জমা রাখা ১ কোটি ৯৩ লক্ষাধিক টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। ধৃতদের নাম প্রণবকুমার ঘোষ ও মনোজিৎ সেন। খণ্ডঘোষ থানার নওপাড়ায় প্রথমজনের বাড়ি। অপরজনের বাড়ি বর্ধমান শহরের শ্যামবাজার এলাকার ডিজে নন্দে রোডে। গত শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের অফিসে ডেকে পাঠায় সিআইডি। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির দাবি, ঘটনায় দু’জনের জড়িত থাকার বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের বয়ানে অসঙ্গতি মিলেছে। তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। রবিবার ধৃতদের বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের তিনদিনের সিআইডি হেফাজত মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম। 
Advertisement
চলতি বছরে বর্ধমান শহরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বিসি রোড শাখা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানত প্রকল্পের টাকা তোলার জন্য আবেদন জমা পড়ে। সন্দেহ হওয়ায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কে জানায়। তাদের তরফে এধরনের কোনও টাকা তোলার আবেদন জমা দেওয়া হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়ে দেয়। এরপরই ব্যাঙ্কের তরফে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এরপর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বর্ধমান স্টেশনবাজার শাখায় তাদের জমা রাখা স্থায়ী আমানত প্রকল্পের টাকার বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 
পুলিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমা রাখা ১ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৭৬ টাকা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ভাঙিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই টাকা সুব্রত দাস নামে এক ঠিকাদারের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্তে নামে বর্ধমান থানা। পরে কেসের তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেয়। সিআইডি কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। ব্যাঙ্কের তৎকালীন ম্যানেজারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ব্যাঙ্ক থেকে কম্পিউটার ও অন্যান্য নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেন সিআইডির গোয়েন্দারা। সিআইডি জেনেছে, হাতিয়ে নেওয়া টাকার একটা অংশ প্রণব এবং মনোজিতের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। প্রণবের অ্যাকাউন্টে ছ’লক্ষ টাকা ১৭ আগস্ট জমা পড়ে। পরে সেটি তুলে নেওয়া হয়। মনোজিতের অ্যাকাউন্টে ২৯ আগস্ট ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জমা পড়ে। তার মধ্যে ৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সে তুলে নেয়। দু’টি ক্ষেত্রেই সুব্রতর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দু’জনের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ