Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে বেহাল রাস্তায় ভোগান্তি-৪, সংস্কার নিয়ে কবে তৎপর হবেন কাউন্সিলাররা, প্রশ্ন শহরবাসীর

বর্ধমানে বেহাল রাস্তায় ভোগান্তি-৪, সংস্কার নিয়ে কবে তৎপর হবেন কাউন্সিলাররা, প্রশ্ন শহরবাসীর
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
গণেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান: শহরে খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো দূরঅস্ত, হেঁটে চলাচল করাও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বাসিন্দাদের আশা ছিল, পাইপলাইন বসানোর পর রাস্তা দ্রুত মেরামত করা হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। কিন্তু, তা হয়নি। রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে পুরসভার পাশাপাশি কাউন্সিলারদের ভূমিকাকেও দায়ী করছেন। যদিও অভিযোগ মানতে নারাজ কাউন্সিলাররা। তাঁদের বক্তব্য, বোর্ড মিটিংয়ে তাঁরা এনিয়ে সরব হন। পুরসভা রাস্তা মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ করলেই সংস্কার শুরু হবে। 
Advertisement
বর্ধমান শহরের পশ্চিমভাগে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে মোহনবাগান মাঠের কাছ থেকে কাজিরহাটের রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। পাথর বেরিয়ে পড়েছে। বেশকিছু জায়গায় গর্ত হয়ে রয়েছে। গোদা শিবতলা এলাকার রাস্তাটিও খারাপ। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সেই রাস্তা দিয়েই পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। বাসিন্দাদের বক্তব্য, কাউন্সিলারকে বলা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গোদার কমলসায়র গলির রাস্তার অবস্থাও বেহাল। কাঁচা রাস্তা দিয়েই বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হয়। রাস্তাটি পাকা করার জন্য কাউন্সিলার, পুরসভা সহ প্রশাসনের নানা মহলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। যদিও তাতে কোনও কাজ হয়নি। পেশায় শিক্ষক স্থানীয় বাসিন্দা আসিফ ইকবাল বলেন, এখানকার জনবসতি ৩০বছরের পুরনো। রাস্তা পাকা করার জন্য বারবার আবেদন করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 
গোদার বাঁধপাড়া, মোল্লাপাড়া, দফাদারপাড়া ও মণ্ডলপাড়ার রাস্তাটির অবস্থাও খুবই খারাপ। এলাকার এক দোকানদার বলেন, ভোট মিটে যেতেই সবকিছু ভুলে যান কাউন্সিলার। রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু, কাজ হয়নি। স্বাস্থ্য উপনগরী যাওয়ার রাস্তা, পাশের ২৫নম্বর ওয়ের্ডের আরবি চ্যাটার্জি রোডের অবস্থাও খারাপ। রাস্তার পাশ ও মাঝখান দিয়ে গর্ত করা হয়েছে। কিন্তু, তারপর রাস্তার সংস্কার করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা কালাচাঁদ কর্মকার বলেন, পাইপ বসানোর আগে থেকেই রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়েছিল। পাইপ বসানোর পর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। ২৫নম্বর ওয়ার্ডের আঁকরবাগানের রাস্তাটিও অত্যন্ত খারাপ। ডিডি তেওয়ারি লেনের রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনগঞ্জ বাজার হয়ে দিঘিরপুল যাওয়ার রাস্তাটিও বেহাল হয়ে পড়েছে। ২৯নম্বর ওয়ার্ডের আফতাব অ্যাভিনিউ থেকে মিঠাপুকুর মোড় পর্যন্ত রাস্তাটিও একেবারে বেহাল। বিভিন্ন জায়গায় গর্ত হয়ে রয়েছে। রাস্তাটি এমনিতেই সংকীর্ণ। তার উপর খানাখন্দ থাকায় যান চলাচলে সমস্যা হয়। ২৮নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রভবন থেকে গোলাপবাগ মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থাও বেহাল। রাস্তাটি সংস্কারে হাত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, সংস্কারের কাজে দেরি হওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। ধুলোয় ভর্তি হয়ে গিয়েছে রাস্তা। গাড়ি গেলে রাস্তার ধুলোয় পথ দেখতে সমস্যা হচ্ছে। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নাজমুনারা বেগম বলেন, পাইপলাইনের জন্য খোঁড়াখুঁড়িতে রাস্তাগুলির অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য উপনগরী যাওয়ার রাস্তাটি আগে সংস্কার করা হয়েছিল। খুব শীঘ্রই এলাকার রাস্তাগুলির সংস্কারের কাজ শুরু হবে। পুরসভাকে বেহাল রাস্তাগুলির তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থ অনুমোদন হলেই রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে। ২৫নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অনুপ আচার্য বলেন, পুরসভার কাছে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কোন রাস্তাগুলি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন তার তালিকা দেওয়া হয়েছে। আঁকরবাগানের রাস্তাটি সংস্কারের অনুমোদন মিলেছে। ২০২২ সালে কাউন্সিলার হওয়ার পর বেশকিছু কাজ করেছি। রাস্তাগুলি আরও দ্রুত সংস্কার করা গেলে ভালো হতো। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এলাকায় অনেক কাজ করেছি। নতুনগঞ্জ থেকে দিঘিরপুল হয়ে মারোয়াড়ি ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি খারাপ তা জানি। রাস্তাটি খুব শীঘ্রই সংস্কার করা হবে। ধোকড়াশহিদ এলাকায় শ্মশান যাওয়ার রাস্তাটিও সংস্কার করা হবে। রাস্তাটি পেভার ব্লকের হবে। (শেষ)
সম্পর্কিত সংবাদ