Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে আটতলা বিল্ডিংয়ের নির্মাণ বন্ধ করল পুরসভা, মালিককে তলব

বর্ধমানে আটতলা বিল্ডিংয়ের নির্মাণ বন্ধ করল পুরসভা, মালিককে তলব
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মঙ্গলবার বর্ধমান শহরের ঢলদিঘিতে আটতলা বিল্ডিং নির্মাণ বন্ধ করলেন পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার। এদিন তিনি আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। নির্মীয়মান বাড়ির দেওয়ালে পুরসভার পক্ষ থেকে পোস্টার দেওয়া হয়। সাতদিনের মধ্যে বিল্ডিংয়ের মালিককে নথি নিয়ে পুরসভায় ডাকা হয়েছে। তা না হলে এফআইআর করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, আটতলা বিল্ডিং তৈরির অনুমতি নেই। আমরা সেখানে গিয়ে কাউকে দেখতে পাইনি। বিল্ডিংয়ের মালিকের খোঁজ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সেই কারণে  দেওয়ালে নোটিস সাঁটানো হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ হলে কাউকে রেয়াত করা যাবে না। এক শ্রেণির বিল্ডিং মালিক নিজেদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করছে। তারা নিয়ম না মানলে কড়া শাস্তির মুখে পড়বে। আমাদের কাছে আরও কয়েকটি বিল্ডিং নিয়ে অভিযোগ এসেছে। সেগুলিতেও অভিযান চালানো হবে।
Advertisement
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। কোথাও সম্পূর্ণ জলাশয় ভরাট করে, কোথাও একাংশ বুজিয়ে বিল্ডিং করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ, এর পিছনে প্রভাবশালীদের মদত আছে। টাকার বিনিময়ে শাসক দলের কিছু নেতার মুখ বন্ধ করতে পারলেই যা খুশি করা যাচ্ছে। এব্যপারে আটটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ পুরসভায় জমা পড়েছে। কিন্তু কিছু প্রভাবশালীর জন্য ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তাই সেই তালিকা জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। 
কয়েকজন পুকুর মালিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে এক আধিকারিক জানিয়েছে। তিনি বলেন, পুরসভার আরও আগে সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। সেটা হলে বর্ধমান শহরজুড়ে এভাবে অবৈধ নির্মাণ কিছুতেই হতো না। তিনতলার অনুমতি নিয়ে কোথাও পাঁচতলা, কোথাও আবার সাততলা বিল্ডিং করা হচ্ছে। এছাড়া এক শ্রেণির জমি হাঙর জলাশয় ভরাটের চেষ্টা করলেও এতদিন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। থানায় অভিযোগ করলে জলাশয় ভরাটেও অনেক আগেই রাশ টানা যেত। সবচেয়ে বড় কথা, কাগজেকলমে জমির চরিত্র পুকুর হলেও তা নোটের জোরে ডাঙা, এমনকী ভিটে পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। পুরসভার চেয়ারম্যান অবশ্য‌ ব঩লেন, অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগেও একাধিক বিল্ডিং মালিকের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হয়েছে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ নির্মাণকারীদের মাথার উপর প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা কাউকে তোয়াক্কা করছেন না। বর্ধমান শহরের চার-পাঁচটি ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধিরা রীতিমতো ‘দাদাগিরি’ করছেন। তাঁদের খুশি করলেই সমস্ত অবৈধ কাজে ছাড়পত্র পাওয়া যায়। প্রতিবাদ করলেই চালানো হয় হামলা। সম্প্রতি দু’জন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে এলাকার বাসিন্দারা লিখিত অভিযোগ করেছেন। আধিকারিকরা তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। পুরকর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযান চলবে। একটি জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। শহরে জলাশয় ভরাট করতে দেওয়া যাবে না বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ