নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেস লাগাতার পরাজিত হচ্ছে। তাই যারা বারংবার হেরে যায়, তারাই পালায়। রাজ্যসভায় এই মন্তব্য জগৎপ্রকাশ নাড্ডার। বাংলায় ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি লাগাতার পরাজিত হয়েই চলেছে। অথচ সংসদে দাঁড়িয়ে নাড্ডা এরকম আজব মন্তব্য করায় দৃশ্যত বিজেপি বেঞ্চের সদস্যরাও অস্বস্তি গোপন করেননি। উপলক্ষ ছিল, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেট আলোচনার পর রাজ্যসভায় জবাবি ভাষণ। লোকসভার মতোই এই কক্ষেও তৃণমূল এমপিরা রাজ্যের বকেয়ার দাবিতে সরব হন। কেন বাজেটে বঞ্চনা করা হল, সেই জবাব চাইছিলেন। পাল্টা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সরাসরি রাজ্য সরকারের ঘাড়েই দোষারোপ করে বলেন, আর্থিক নয়ছয় হয়েছে বলেই টাকা আটকে আছে। পাল্টা তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, যে প্রকল্পে কোনওরকম অভিযোগের কথা কেন্দ্রীয় সরকারও বলেনি, সেখানেও টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হচ্ছে না। ডেরেকের বক্তব্য, রাজ্যসভায় সংসদীয় রীতি ভঙ্গ করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিধি অনুযায়ী কোনও প্রাসঙ্গিকতা ছাড়া রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না। অথচ সেটাই করা হচ্ছে। এমনকী সম্পূর্ণ অসংসদীয়ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে আক্রমণ করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে সংসদে তাঁর নামোচ্চারণ করা যায় না। এদিকে কোণঠাসা অর্থমন্ত্রীকে বকেয়া নিয়ে লাগাতার চেপে ধরায় তাঁকে আড়াল করতে জগৎপ্রকাশ নাড্ডা উঠে দাঁড়ান। তৃণমূল এমপিদের কটাক্ষ করে বলেন, সংসদকে মাছের বাজার পেয়েছেন নাকি? সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল এমপিরা সমস্বরে বলেন, আগে জবাব দিন রাজ্যের প্রাপ্য কেন দিচ্ছে না কেন্দ্র। প্রবল হট্টগোলে তৃণমূল এমপিরা ওয়াক আউট করেন। তখন নাড্ডাকে বলতে শোনা যায়, যারা বারংবার হেরে যায়, তারাই এভাবে পালায়। তৃণমূল লাগাতার হেরে চলেছে। তাই এই হতাশা। এ প্রসঙ্গে ডেরেক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিজেপি লাগাতার হেরেই চলেছে। সেখানে এরকম হাস্যকর কথা একটি দলের সর্বভারতীয় সভাপতি বলছেন। বিজেপির রাজনৈতিক চিন্তা তলানিতে নেমেছে।



