Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বরাবাজারে সরকারি জমি ঘিরতে দৌড়ঝাঁপ

বরাবাজারে সরকারি জমি ঘিরতে দৌড়ঝাঁপ
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বর্তমানের খবরের জের। বরাবাজারে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের জমি ‘পুনর্দখলের’ প্রক্রিয়া শুরু করল জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। শনিবারই বরাবাজারে যান জেলা পরিষদের সেক্রেটারি উজ্জ্বলকুমার মণ্ডল, বরাবাজারের বিএলএলআরও সুদেষ্ণু অধিকারী, জেলা পরিষদের ওই এলাকার সদস্য তথা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিকাশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সুমিত সিং মল্ল প্রমুখ। 
Advertisement
জেলা পরিষদের সেক্রেটারি বলেন, ‘যে জমিটি নিয়ে অভিযোগ ছিল, আমরা তা সরেজমিনে তদন্ত করেছি। বিএলএলআরও-কে  এই সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ওই এলাকায় জেলা পরিষদের যে জমি রয়েছে, তা ঘিরে বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হবে। জেলা পরিষদের কোনও জমি যাতে বেহাত না হয়, তার জন্য আমরা সতর্ক রয়েছি।’ প্রসঙ্গত, বরাবাজার থেকে বেরেদা যাওয়ার রাস্তার ধারে খেঁজুর বাঁধের কাছেই রয়েছে জেলা পরিষদের জমি। সেই জমি প্লট করে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা পুরুলিয়া জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী সুমিতা সিং মল্ল। অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) রানা বিশ্বাসের কাছে এনিয়ে একটি অভিযোগপত্রও জমা দেন তিনি। অভিযোগ পেয়েই গত ২৬ ডিসেম্বর গোটা ঘটনার তদন্তের জন্য বরাবাজারের বিএলএলআরওকে নির্দেশ দেন তিনি। যদিও তারপর থেকেই শুরু হয় গরিমসি। এনিয়ে মঙ্গলবার একটি খবর প্রকাশিত হয় ‘বর্তমান’ পত্রিকায়। এরপড়েই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
জেলা পরিষদ সূত্রের খবর, এদিন সকালে অফিস খুলতেই এনিয়ে বৈঠকে বসেন জেলা পরিষদের আধিকারিকরা। এরপরেই ব্লকের ভূমিদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে গোটা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তাঁরা। ফিতে নিয়ে মাপজোকও করা হয়। ওই এলাকায় জেলা পরিষদের যতটা জমি রয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিতও করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সাতদিনের মধ্যে ওই এলাকা ঘিরে বোর্ড লাগানোর জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন জেলা পরিষদের সেক্রেটারি। ওই জায়গায় স্টল তৈরি করে ভাড়া দেওয়ারও পরিকল্পনা করছে জেলা পরিষদ। সুমিতা সিং মল্ল বলেন, সরকারি জায়গা কোনও মতেই দখল হতে দেব না। যেখানেই দেখব, সেখানেই এভাবে প্রতিবাদ করব।
এদিন জেলা পরিষদের বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির বৈঠকও হয়। সেই বৈঠকেও এই প্রসঙ্গ ওঠে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যেখানে যেখানে জেলা পরিষদের জায়গা রয়েছে সেইসব জায়গা শীঘ্রই চিহ্নিত করার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি নতুন করে যাতে সরকারি জায়গা দখল না হয়, সে ব্যাপারেও নজর দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ জয়মল ভট্টাচার্য বলেন, শুধু বরাবাজারেই নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তেই বহু সরকারি জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। সরকারি জমির রেকর্ড বদলে রায়তি জমিও করে ফেলা হচ্ছে। এনিয়ে বহু অনিয়ম নজরে এসেছে আমাদের। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। জেলা পরিষদের দলনেতা স্বপন বেলথরিয়া বলেন, নিজস্ব তহবিলের আয় বাড়াতে যেখানে যেখানে জেলা পরিষদের জায়গা রয়েছে, সেইসব জায়গায় স্টল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। 
এ প্রসঙ্গে বরাবাজার ২ মণ্ডলের সভাপতি নিশাপতি মাহাত বলেন, সরকারি জমির দখল হয়ে যাওয়া আটকানোর দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে রয়েছে, তাঁরাই এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছেন। তাঁদের প্রশ্রয়েই বরাবাজারের জমি মাফিয়াদের রাজ চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ