Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বীরভূমের পাথর শিল্পাঞ্চলে যক্ষ্মায় লাগাম টানতে পদক্ষেপ স্বাস্থ্যদপ্তরের

বীরভূমের পাথর শিল্পাঞ্চলে যক্ষ্মায় লাগাম টানতে পদক্ষেপ স্বাস্থ্যদপ্তরের
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: পাথর শিল্পাঞ্চলে বেলাগাম যক্ষ্মা। টিবি সংক্রমণ রুখতে রাজ্যের ১৯টি জেলায় বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।  বীরভূম জেলাতেও যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রনে ১০০দিনের বিশেষ কর্মসূচি শুরু করল জেলাস্বাস্থ্য দপ্তর। এই অভিযান এক সঙ্গে রাজ্যের ১৯টি স্বাস্থ্য জেলায় শুরু হয়েছে। তারমধ্যে এই জেলার দুটি স্বাস্থ্য জেলার মধ্যে শুধু বীরভূম স্বাস্থ্য জেলাতেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। কারণে স্বাস্থ্য কর্তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী এই স্বাস্থ্যজেলাতে আশানুরূপভাবে যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। তাই কেন্দ্রের নির্দেশে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। চলতি মাসের ৭ ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলবে। 
Advertisement
উল্লেখ্য, এই স্বাস্থ্যজেলার অধীনেই রয়েছে দেউচা পাচামি পাথর শিল্পাঞ্চল এলাকা। পাথর শিল্পাঞ্চলে মূলত যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ সব থেকে বেশি দেখা যায়। কারণ পাথরের ধুলো থেকেই সিলিকোসিস, যক্ষ্মা এই জাতীয় রোগ বেশি হয়। তাছাড়াও জেলার অন্যান্য এলাকাতেও রয়েছে এই ধরনের সংক্রমণ। এই সমীক্ষায় রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর দেখতে পেয়েছে, এই জেলায় যক্ষ্মা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে রোগ চিহ্নিতকরণ কম হচ্ছে। তাই এই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। 
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযানে যক্ষ্মারোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য রোগীর চারটি বিশেষ উপসর্গ আগে দেখা হতো এবং রোগীকে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হতো। কিন্তু এই ১০০ দিনের বিশেষ অভিযানে জেলার পঞ্চায়েত ও পুর এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি যাবেন আশাকর্মীরা। সেখানে আশাকর্মীরা প্রতিটি পরিবারে গিয়ে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক যক্ষ্মা রোগীদের চিহ্নিত করবেন এবং তাঁদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেবেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর যক্ষ্মা রোগ ধরা পড়লে সরকারিভাবে তাঁর চিকিৎসা হবে আগামী ছয়মাস। সেই ছয় মাসে কেন্দ্রের নিক্ষয় পোষণ যোজনা প্রকল্পে যক্ষ্মারোগীকে মাসে পাঁচশো টাকা দেওয়া হতো আগে। নভেম্বর মাস থেকে সেই রোগী মাসে এক হাজার টাকা হিসাবে মোট ছয় হাজার টাকা অনুদান পাবেন। এই অর্থ দেওয়া হয় রোগীর চিকিৎসা চলাকালীন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের সুবিধার জন্য। নভেম্বর মাস থেকেই ১০০ দিনের জন্য এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। 
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে এই স্বাস্থ্যজেলায় দুই হাজার ২৮৯ জন যক্ষ্মারোগীকে শনাক্ত করা হয়েছিল। সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত হয়েছে দুই হাজার ৪৬৭ জন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী এই স্বাস্থ্যজেলায় প্রায় তিন হাজার ৫০ জনকে শনাক্ত করার কথা ছিল। সেই টার্গেট পূরণ না হওয়ার কারণে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। যক্ষ্মা রোগীদের জন্য কেন্দ্রের নিক্ষয় মিত্র নামে প্রকল্প চালু থাকলেও বর্তমানে সেই প্রকল্পে সাড়া মিলছে না বলে অভিযোগ।  জানা গিয়েছে, এখন জেলায় ২৩১ জন নিক্ষয় মিত্র গত তিন বছরে ৪৯৯ জন রোগীর খাদ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। 
এই স্বাস্থ্যজেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রী আড়ি বলেন, এই জেলায় যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা একটি ১০০ দিনের বিশেষ অভিযান শুরু করেছি। সেই অভিযান শুরু হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য এই জেলা থেকে যক্ষ্মা নির্মূল করা। তাই নিক্ষয় মিত্র হিসাবে যাতে আরও মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, সেই আবেদনও জানাচ্ছি।   
সম্পর্কিত সংবাদ