Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বীরভূমে সংগঠনের উপর নজর রাখছে রাজ্য নেতৃত্ব, কোর কমিটির বৈঠকে থাকবেন অভিষেক

বীরভূমে সংগঠনের উপর নজর রাখছে রাজ্য নেতৃত্ব, কোর কমিটির বৈঠকে থাকবেন অভিষেক
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা বোলপুর: দু’বছর জেলবন্দি থাকার পর দুর্গাপুজোর আগে বোলপুর ফিরেছেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তৃণমূলের কোর কমিটির কোনও বৈঠক হয়নি। এমনকী, দলের বিজয়া সম্মিলনিতেও অনুব্রতর মঞ্চে দেখা যায়নি তাঁর বিরোধী বলে পরিচিত কোর কমিটির অন্যতম সদস্য কাজল শেখকে। ফলে, দল পরিচালনা নিয়ে জেলা নেতৃত্বের সমন্বয়ের অভাব সামনে আসতেই দ্রুত কোর কমিটির বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতির উপরেও দলনেত্রী সহ শীর্ষ নেতৃত্বের নজর রয়েছে। ‌এমতাবস্থায় অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে কোর কমিটির বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক প্রতিনিধি।‌ এমনটাই জানিয়েছেন কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী। তবে, এখনও বৈঠকের তারিখ ঠিক হয়নি। 
Advertisement
গোরু পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পর্যন্ত বীরভূম জেলা তৃণমূলে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল অনুব্রত মণ্ডলের। তাঁর নির্দেশই ছিল শেষ কথা। কিন্তু তাঁর জেলবন্দি হওয়ার পর জেলা কে চালাবেন, এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে রাজ্য নেতৃত্ব। এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বীরভূমের দায়িত্ব নেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের নেতাদের নিয়ে তৈরি করেন কোর কমিটি। পঞ্চায়েত নির্বাচন আসতেই কোর কমিটির অগ্নিপরীক্ষা শুরু হয়। তাতে উতরে যায় তৃণমূল। জেলার ৫২টি জেলা পরিষদের মধ্যে ৫১টি, ১৯টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ১৯টিতে বিপুল ভোটে জয় পায়। এছাড়া ১৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৪২টি দখল করে কোর কমিটির সদস্যরা রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়ে নেন। এরপর লোকসভা নির্বাচন আসতেই কালিঘাটে বীরভূম নেতৃত্বকে নিয়ে একটি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে দুই সাংসদকে নির্বাচনী প্রচারে মনোযোগ দেওয়ার জন্য কোর কমিটি থেকে তিনি সরিয়ে দেন। কোর কমিটির সদস্যদের মধ্যে ১৪টি বিধানসভায় কাজ করার দায়িত্ব বণ্টন করেন। তাতে ফলও মেলে হাতেনাতে। ২০১৯ সালের তুলনায় কোর কমিটির নেতৃত্বে ২০২৪ সালে মার্জিন আরও বাড়ে। অসিত মাল ২০১৯ সালে পেয়েছিলেন এক লক্ষ ২২ হাজার ভোট। কিন্তু ২০২৪ সালে ভোটের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় তিন লক্ষ সাতাশ হাজার ভোট। অন্যদিকে, শতাব্দী রায় ২০১৯ সালে ৮৩ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। ২০২৪ সালে তা বেড়ে এক লক্ষ ৯৭ হাজার ভোটে তিনি জয়যুক্ত হন। লোকসভা নির্বাচনে ফল প্রকাশের পর সারা রাজ্যে নবনির্বাচিত সংসদ ও জেলা নেতৃত্বকে কালীঘাটের অফিসে ডেকে পাঠান দলনেত্রী। বীরভূম জেলার কোর কমিটিও সেই বৈঠকে ডাক পায়। সেখানে বীরভূম জেলার কোর কমিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন দলনেত্রী ও উপস্থিত রাজ্য নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, দলনেত্রী বীরভূমের কোর কমিটিকে বলেছিলেন, ‘আমি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু তোমরা সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছো। তোমরা তোমাদের সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাও।’
অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে এ যাবৎ সেভাবেই কাজ করে এসেছে কোর কমিটি। কিন্তু তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই কোর কমিটি নিয়ে জেলা নেতৃত্বে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। কোর কমিটিকে এড়িয়ে বিজয়া সম্মিলনির তারিখ নির্ধারণ করেন খোদ জেলা সভাপতি। এতেই তরজা শুরু হয়। ফলে, কোনও সম্মিলনিতেই অনুব্রত-কাজলকে একসঙ্গে দেখা যায়নি। এই খবর রাজ্যের কানে যেতেই নড়েচড়ে বসে শীর্ষ নেতৃত্ব। সঙ্গে সঙ্গে জেলা সভাপতি ও কোর কমিটিরকে ডেকে বৈঠক ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীকে। আর সেই বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি। স্বভাবতই ওই বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক কারবারিদের। 
সম্পর্কিত সংবাদ