নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রাজ্যের নির্দেশিকায় ইতিমধ্যে ছোট ও প্রান্তিক আলু চাষিদের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে। প্রতিটি হিমঘরের ৩০ শতাংশ স্থান তাঁদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশিকা জারি হয়েছে। মূলত আলুর অভাবী বিক্রি রুখতেই রাজ্যের এই পদক্ষেপ। রাজ্যের সেই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়ে এবার বীরভূম জেলা হিমঘর অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা আরও বড় পদক্ষেপ নিল। অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনে চাষিরা রাজ্যের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়েও বেশি আলু রাখার সুযোগ পাবেন। স্বাভাবিকভাবেই জেলার ছোট ও প্রান্তিক চাষিরা খুবই খুশি। উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবার জেলার চাষিরা মুনাফার আশায় প্রহর গুনতে শুরু করেছেন। ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য রাজ্যের তরফে হিমঘরে স্থান সংরক্ষণের ঘোষণার পরই বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন বৈঠক সারল। জেলার কৃষি দপ্তরের আধিকারিক থেকে শুরু করে উদ্যান পালন দপ্তর সহ হিমঘরের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি ম্যারাথন বৈঠক চলে। জেলা প্রশাসন ও অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। রাজ্যের ঘোষণা সহ ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের সুবিধা অসুবিধার কথা নিয়ে সেই বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকে হিমঘর মালিকদের তরফেও বেশ কিছু প্রস্তাব উঠে এসেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আলু চাষের নিরিখে জেলার সাতটি ব্লকে মোট হিমঘরের সংখ্যা ১৮টি। তবে সিংহভাগ ব্লকেই হিমঘর নেই। যদিও ইলামবাজার, দুবরাজপুর, মল্লারপুর সহ বিভিন্ন এলাকার চাষিরা হিমঘরের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। নির্দিষ্ট জমি থেকে কম দূরত্বের হিমঘরে আলু রাখার সুযোগ মিলবে। সেক্ষেত্রে একজন চাষি ৭০ বস্তা আলু মজুতের সুবিধা পাবেন। তবে কোনও ক্ষেত্রে প্রান্তিক চাষিদের জমিতে ফলন বেশি হলে ৭০ বস্তার বেশিও আলু মজুত করার সুযোগ থাকছে। মূলত জেলার ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের লোকসান রুখতেই হিমঘর মালিকেরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূম জেলার মধ্যে রামপুরহাটে সব থেকে বেশি হিমঘর রয়েছে। সবকটি হিমঘর মিলিয়ে জেলায় প্রায় ২০ লক্ষ ৮১ হাজার ৪২৮ কুইন্টাল আলু মজুত করা সম্ভব। জেলা হিমঘর অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানা গিয়েছে, গত বছর ১৮টি হিমঘর মিলিয়ে প্রায় ৩২ লাখ বস্তা আলু মজুত করা হয়েছিল। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে আলু থাকে। উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর সেই সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জগমোহন সারদা বলেন, রাজ্যের সিদ্ধান্ত খুবই প্রশংসনীয়। তবে প্রয়োজন হলে ছোট ও প্রান্তিক চাষিরা ৭০ বস্তার বেশি আলু হিমঘরে রাখার সুযোগ পাবেন। কোনও একজন চাষিকেও যেন অভাবী বিক্রির মুখে পড়তে না হয় তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



