Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বীরভূমে বালি পাচার রুখতে উদ্যোগ, জেলাজুড়ে এবার চলবে সারপ্রাইজ নাকা চেকিং

বীরভূমে বালি পাচার রুখতে উদ্যোগ, জেলাজুড়ে এবার চলবে সারপ্রাইজ নাকা চেকিং
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দায়িত্ব গ্রহণের পরই বালি পাচার রুখতে জেলা পুলিস সুপার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে পথ চলা শুরু করলেন। বালি পাচার বন্ধ করতে জেলাজুড়ে নাকা চেকিংয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিস সুপার আমনদীপ জানিয়েছেন, এখন থেকে জেলাজুড়ে সারপ্রাইজ নাকা চেকিং চলবে। দিনের বিভিন্ন সময় এই নাকা চেকিং করা হবে। কমপক্ষে একটানা ২ ঘণ্টা ধরে এই নাকা চেকিং চলবে। প্রয়োজনে একইদিনে একাধিকবারও নাকা চেকিং হতে পারে। 
Advertisement
সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বালি পাচার রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। এরপরই জেলা প্রশাসন একপ্রকার আদাজল খেয়ে মাঠে নামে। জেলাশাসক বিধান রায়ও বালি পাচার রুখতে বিভিন্ন সময় রাতের অন্ধকারে অভিযানে নামেন। সেইসঙ্গে জেলা পুলিসও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে, আমনদীপ জেলা পুলিস সুপারের দায়িত্ব নিতেই আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। অবৈধভাবে যাতে কোনও নদী থেকে বালি তোলা না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চলানো হবে। তবে সারপ্রাইজ নাকা চেকিংয়ে সব থেকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। জেলা পুলিস কর্তাদের আশা, সারপ্রাইজ নাকা চেকিংয়ের জেরে বালি পাচারে রাশ টানা সম্ভব হবে। 
জেলা পুলিস সুপারের নির্দেশে গত বুধবার জেলাজুড়ে দুই দফায় সারপ্রাইজ নাকা চেকিং চলেছিল। ডিএসপি, এসডিপিও, সিআই, আইসি, ওসিরা বিভিন্ন এলাকায় নাকা চেকিং করেন। গোটা জেলায় দু’দফায় মোট ৬০টি নাকা চেকিং হয়েছিল। আগামীতে খোদ পুলিস সুপারও বালি পাচার রুখতে একবারে গ্রাউন্ড জিরোতে নামতে চলেছেন। সেইসঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের ‘ভরসা’-র আদলে এই জেলাতেও একটি অ্যাপ তৈরির ভাবনা রয়েছে। বালি পাচার রুখতে এই অ্যাপ বিশেষ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য অভিযোগও সেই অ্যাপের মাধ্যমে জেলা পুলিসের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে। 
ওই রাতে রামপুরহাট থানার তরফে বালি বোঝাই চারটি লরি ও চারটি ট্রাক্টর বাজেয়াপ্ত করা হয়। ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় মোট চারজন। অন্যদিকে, মল্লারপুর থানার তরফে চারটি ট্রাক্টর সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মারগ্রামে বালিবোঝাই যন্ত্রচালিত ভ্যান সহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হয়। জেলা পুলিস সুপার বলেন, কোনও প্রকার অবৈধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না। কোনও অভিযোগ পেলেই দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ