নিউ ইয়র্ক: বিশ্বকাপ মানেই রঙিন গ্যালারি। ঢাক-ঢোল, সাম্বা নাচে আবেগের বিস্ফোরণ! লড়াইটা সবুজ গালিচায় হয় ঠিকই, কিন্তু বিশ্বকাপে প্রাণ সঞ্চার করেন সমর্থকরাই। বিশেষ করে সাম্বা অনুরাগীরা। এবার ভাবুন, সাম্বার দেশের সমর্থকরা যদি মাঠে আসতে না পারেন, সেই বিশ্বকাপ কেমন হবে? হ্যাঁ, আমেরিকায় আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপে সমর্থকদের ছাড়াই বিশ্বকাপে খেলতে হতে পারে ব্রাজিলকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার নতুন অভিবাসী ভিসা নীতির পর এই আশঙ্কাই মাথাচাড়া দিয়েছে। ক’দিন আগেই আমেরিকার বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার হচ্ছে। ২১ জানুয়ারি থেকেই তা কার্যকর হবে। সেই তালিকায় ব্রাজিল, ইরান, কলম্বিয়া, ঘানা, মরক্কো, সেনেগালের মতো একাধিক দেশ আছে, যারা আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। স্বভাবতই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সমর্থকদের আমেরিকার ভিসা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অবশ্য আমেরিকার বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যটক ও স্বল্পমেয়াদি ভিসার জন্য ছাড় দেওয়া হতে পারে। ফিফা আশাবাদী, সেই আওতায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির সমর্থকরা ছাড় পাবেন। কিন্তু ব্রাজিলের জন্য প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণটা রাজনৈতিক। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক ভালো নয়। আমেরিকার এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে অনুযায়ী, বাকি দেশগুলিকে ছাড় দিলেও ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা ভিসা সম্ভবত পাবেন না। কারণ ট্রাম্প মনে করছেন, বিশ্বকাপে আসতে না পেরে প্রেসিডেন্ট লুলার উপর ক্ষেপে যাবেন ব্রাজিলের সাধারণ মানুষ। পুরো বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলাও। তিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলপ্রেমীদের আশ্বাস দিয়েছেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। এই জট যাতে কাটে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সেটা আমেরিকার কাছে মাথা নত করে নয়।’ ব্রাজিলের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও আমেরিকার সম্পর্ক ভালো নয়। জানা যাচ্ছে, সেদেশের সমর্থকদেরও ভিসা দিতে চাইছে না ট্রাম্প সরকার।