নিউ জার্সি: স্ট্যাচু অব লিবার্টির আকাশে উড়ো মেঘের লুকোচুরি। আটলান্টিক সিটির জমকালো রাস্তায় হলুদ জার্সির ঝলকানি। আমোদপ্রিয় ব্রাজিল সমর্থকদের জটলায় ভেসে বেড়াচ্ছে ফুটবল। রবিবার ভারতীয় সময় রাত দেড়টায় শেষ ষোলোর ধুন্ধুমার লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। ভাইকিং বনাম সেলেকাও দ্বৈরথের উত্তেজনায় গা সেঁকছে শহর। পরিসংখ্যান নিয়ে পেলের দেশ বেশ উৎকণ্ঠায়। চারবারের সাক্ষাতে দু’বার জিতেছে নরওয়ে। বাকি দু’টি ম্যাচ ড্র। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নরওয়ের ব্রাজিল বধ নিয়েও জোর চর্চা। হালান্ডদের বর্তমান কোচ স্টেল সোলবাকেন সেই স্কোয়াডে ছিলেন। তবে তাঁর কেরিয়ার অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র ৩৩ বছরেই অকাল অবসর। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর জীবনসংশয় দেখা দেয়। তড়িঘড়ি পেসমেকার বসিয়ে প্রাণরক্ষা হলেও ফুটবল কেরিয়ারে ইতি। তবে মাঠ ছেড়ে দূরে থাকতে পারেননি ভদ্রলোক। এখন কোচিংই তাঁর হাতিয়ার। ২৮ বছর আগে ব্রাজিলকে বশ মানানোর রাতে সোলবাকেন ছিলেন ফুটবলার। কোচ হিসাবেও সেই কৃতিত্ব স্পর্শ করতে মরিয়া তিনি। ডন কার্লো বনাম সোলবাকেন। ডাগ-আউটেও ম্যাচ জমানোর সব মশলা মজুত।
নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। অভিজ্ঞতা মোটেও সুখের নয়। তার উপর চোট সমস্যায় নেই পাকুয়েতা। রিহ্যাব শুরু করলেও রাফিনহাকে পাওয়ার আশা একেবারেই ক্ষীণ। কোচ আনসেলোত্তি কীভাবে আপফ্রন্ট সাজাবেন সেদিকে তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা। স্ট্র্যাটেজিতে ফাইন টিউন করে ৪-১-২-৩ ফর্মেশনে দল সাজাচ্ছেন আনসেলোত্তি। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার কাসেমিরো বেশ শ্লথ। জাপানের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় কার্লো ফর্মুলাতেই বাজিমাত করে সাম্বার দেশ। চনমনে এনড্রিক, স্কিলফুল মার্তিনেল্লিকে নামিয়ে সামুরাই দুর্গে ফাটল ধরানোর সিদ্ধান্ত সুপারহিট। ওয়ার্ম-আপ করিয়েও সেদিন নেইমারকে নামাননি কার্লো। নরওয়ের বিরুদ্ধে সাম্বা ফুটবলের পোস্টার বয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রবল কৌতূহল। ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে অনেকটাই স্বাধীনতা দিয়েছেন কার্লো। লেফট উইংয়ে ভিনি যেন রোলস রয়েস। দ্রুত শাফল করছেন। ডানপ্রান্তে তরুণ রায়ান কার্লোর টেক্কা। গ্রুপ লিগ ও নক-আউট মিলিয়ে নরওয়ের লক্ষ্যভেদের সংখ্যা ১০। তবে ৮ টি গোল হজম করেছে তারা। ম্যাচের আগে যা কুনহা, রায়ানদের উৎসাহ দেবে।
আর্লিং হালান্ডকে সামনে রেখে তাল ঠুকছে নরওয়ে। ইতিমধ্যেই চলতি টুর্নামেন্টে হালান্ডের গোলসংখ্যা ৫। যে কোনো রক্ষণকে ভয় ধরাতে পারেন। অন্যদিকে মার্কুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল বেশ সফট ডিফেন্ডার। হালান্ডকে রোখা তাঁদের অ্যাসিড টেস্ট। সোলবাকেনের ৪-২-১-৩ ফর্মেশন বেশ আকর্ষণীয়। আন্তোনিও নুসার সঙ্গে হালান্ডের কম্বিনেশন যেন সোনার হারে হিরের লকেট। বিপক্ষ বক্সের বাঁদিকে বল ধরে কাট করে ঢোকার প্রবণতা রয়েছে নুসার। ফলে সতর্ক থাকতে হবে ডানিলোকে। আনসেলোত্তির ব্রাজিলে উইং ব্যাক বেশ নড়বড়ে। নরওয়ে কোচের ল্যাপটপে তা নিয়ে নিশ্চয়ই কাটাছেঁড়া চলছে।