নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেনায় ডুবে ফেডারেশন। জল বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙতে চেয়েছিলেন সভাপতি। কিন্তু তা শুনেই স্পেশ্যাল জেনারেল মিটিংয়ে রে-রে করে ওঠেন কমিটির সদস্যরা। আসলে ২০ কোটির ফিক্সড ডিপোজিট সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার শেষ সম্বল। তা ভাঙালে এআইএফএফের চলবে কী করে? সংস্থা চালানোই হবে দুষ্কর। আটকে যাবে কর্মীদের বেতনও। শেষপর্যন্ত এসজিএমে সবার তীব্র আপত্তিতে পিছু হঠেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। কিন্তু পাহাড়প্রমাণ দায় মেটাবেন কে? রাজধানীর ফুটবল হাউসে তীব্র আশঙ্কা দানা বাঁধছে। এই বিষয়ে ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। উত্তর দেননি মেসেজের।
এক মাস আগেই ঘটা করে পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচ আয়োজন করেছিল ফেডারেশন। যদিও তাতে পরিকল্পনার অভাব ছিল স্পষ্ট। বেঙ্গালুরু তো বটেই, পুজোর আগে ফুটবলের মক্কাতেও অর্ধেক গ্যালারি ভরেনি। এইসময় অনেকেই সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন। অভিজ্ঞদের আশঙ্কা ছিল-শেষপর্যন্ত ঘটিবাটি বেচতে হবে না তো? যদিও ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে আশ্বাস দিয়েছিলেন কোনও ক্ষতি হলে সেই টাকা আউটসোর্সিং করে মিটিয়ে দেওয়া হবে। হানিমুন পিরিয়ড শেষ হতেই দেখা গেল আয়োজনের খরচ তুলতেই ব্যর্থ ফেডারেশন। সূত্রের খবর, উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বকেয়া প্রায় ২৬ কোটি টাকা। দ্রুত মেটাতে না পারলে ফিফার দ্বারস্থ হবে তারা। সেক্ষেত্রে বড়ো শাস্তির মুখে পড়তে পারে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। সূত্রের খবর, এই তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে ফেডারেশনের। এখানেই শেষ নয়, আরও আছে। চলতি আর্থিক বছরে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার। বাকি মরশুমে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রয়োজনীয় অর্থও নেই কোষাগারে। বাকি মরশুম চলবে কী করে? ভাবতেই শিউরে উঠছেন অনেকে। এমন অবস্থায় সহ-সভাপতি এন এ হ্যারিস কোর কমিটিকে নিয়ে দ্রুত মিটিংয়ে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে ভরাডুবি বাঁচাতে প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল প্যাটেলের দ্বারস্থ হতে পরেন কর্তারা। কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিও উঠছে। এরইমধ্যে আগামী ২০ ডিসেম্বর এআইএফএফের নির্বাচন। তার আগে ক্রমশ চাপ বাড়ছে বর্তমান সভাপতি কল্যাণ চৌবের উপর।



