সংবাদদাতা, পুরুলিয়া ও মানবাজার: চৈত্রের ঠাঠা পোড়া রোদ আর তেমনি গরম। তা সত্ত্বেও রাস্তার দু’ পাশে সারি সারি কালো মাথা। সেই ভিড়ে কলেজ পড়ুয়া থেকে গৃহবধূ, কে নেই! উদ্দেশ্য একবারটি দেবদর্শন। রুপোলি পর্দার সোনালি নায়ক দেবকে দেখতে সে কী উন্মাদনা। কিন্তু বলরামপুরে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে রোড শেষ হওয়ার আগেই ‘প্রজাপতি’-র নায়ক ফিরে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ বাসিন্দারা। তবে যতক্ষণ ছিলেন, রাস্তার ধারে জমায়েত হওয়া ভিড়ের উদ্দেশ্যে হাযজোড় করে নমস্কার করে, অত্যুৎসাহীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রোড শো জমিয়ে দেন দেব।
এদিন বান্দোয়ানের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজীব লোচন সরেন এবং বলরামপুরে তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতোর সমর্থনে রোড শো করতে আসেন ঘাটালের সংসদ সদস্য তথা নায়ক দীপক অধিকারী (দেব)। প্রিয় অভিনেতার আসার খবর পেয়ে অনেক আগে থেকেই রাস্তার দু’ পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও। কেউ দেবের সঙ্গে দূর থেকেই সেলফি তুলতে চাইলেন, কেউ আবার ছুটে গিয়ে কোনোক্রমে প্রিয় অভিনেতাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করলেন। হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন দেবও। এদিন দুপুরে বরাবাজারের রাগমা মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামেন তিনি। কলেজ মোড় থেকে বরাবাজার শহরে রোড শো করেন। রাস্তার দু’ ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কাতারে কাতারে মানুষ হাত নেড়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। তবে শুধু বড়রা নয়, বহু স্কুল পড়ুয়াও দেবকে দেখতে ভিড় জমান। এদিন বরাবাজারের রোড শোয়ে আদিবাসীদের উপস্থিতিও নজর কেড়েছে।
বরাবাজারের রোড শো শেষ করে গাড়িতে করে বলরামপুরে পৌঁছন নায়ক। সেখানে হুড খোলা গাড়িতে তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরামাবাবুর সঙ্গে রোড শো শুরু করেন বাঘাডি গ্রাম থেকে। দেবের সঙ্গে সেলফি তোলার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের মধ্যেও হুড়োহুড়ি লেগে যায়। বলরামপুর বাজারের একাংশ পরিক্রমা করার পর পুরানো পোস্ট অফিস এলাকায় হুড খোলা গাড়ি থেকে নেমে পড়েন দেব। কালীতলা পর্যন্ত রোড শো যাওয়ার কথা থাকলেও দেব সেই পর্যন্ত যাননি। যা নিয়ে বলরামপুরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শান্তিরাম মাহাত বলেন, ওঁর শরীর খারাপ থাকায় আগেই নেমে পড়েন। অন্য কোনো বিষয় নেই। বাকি সব জায়গাতেই কর্মী সমর্থকদের ব্যাপক ভিড় ছিল।