অরূপ সরকার, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমানের খনি অঞ্চল উখড়ার হান্ডা জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ২০০ বছর ছুঁইছুঁই। হান্ডা পরিবারের বড় পিতলের নির্মিত রথ আজও বাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যময় ধাতুশিল্পের নিদর্শন বলা চলে। এই রথযাত্রা ঘিরে বিশাল মেলা ও উৎসবের আয়োজন হয় প্রতি বছর। বহু ভক্ত ও কৌতুহলী মানুষ রথে আসীন জগন্নাথদেবকে দর্শন করতে ভিড় জমান। ভক্তরা নিজেদের মনস্কামনা পূরণে রথের রশি টানতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন।
হান্ডা পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসার সূত্রে হান্ডা পরিবার ১৮০০সালে লাহোরের মচ্ছিহাটা থেকে বাংলায় এসেছিল। তারা বাঙালি না হলেও বাংলার ও বাঙালির সংস্কৃতিতে মুগ্ধ হয়েছিলেন। দুর্গাপুজো, ঝুলনযাত্রা, রাস ও রথযাত্রা সহ বাঙালির নানা পুজোপার্বনে মেতে ওঠেন হান্ডারা। উখড়ায় গড়ে ওঠে দুর্গামন্দির সহ একাধিক দেবদেবীর মন্দির। ওই সময় থেকে এখনও রীতিনীতি মেনেই উৎসবগুলি পালন করে আসছে হান্ডা পরিবার। যদিও প্রায় ২৫বছর আগে রীতিনীতির পরিবর্তন আসে এই রথযাত্রায়। আগে হান্ডা পরিবারের গোপীনাথ জিউ মন্দির থেকে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামকে পালকিতে করে রথতলায় রথে বসানো হয়। সেখান থেকে রথ পরিক্রমা করে উখড়া চাদনি বাড়ির(মাসির বাড়ি) দুর্গা মন্দিরে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামকে রাখা হতো। ফের উল্টোরথে গোপীনাথ জীউ মন্দিরে আনা হতো দেবতাদের। তবে এই রথের ঐতিহ্য এখনও নজর কাড়ে ভক্ত সহ এলাকাবাসীর। হান্ডাদের রথের উচ্চতা প্রায় ২২ ফুট। রথটি সনাতন বাংলা নবরত্ন মন্দিরের অনুকরণে নির্মিত।
হান্ডা পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের এক সদস্য বিশাল লাল সিং হান্ডা বলেন, রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশাল আকারের মেলা বসে। হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। কোনও অঘটন যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিস-প্রশাসন নজরদারি চালায়। সকলের সহযোগিতায় বহু মানুষ আনন্দে মাতেন।