নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা ছাত্রীকে কীটনাশক মেশানো ঠান্ডা পানীয় খাইয়ে খুন করা হল। গত ১৮জানুয়ারি জোর করে বিষ মেশানো পানীয় খাওয়ানোর ঘটনা ঘটে। টানা ১৫দিন যমে-মানুষে লড়াইয়ের পর রবিবার দুপুরে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম শ্রাবণী ভুঁইয়া(১৫)। বাড়ি চণ্ডীপুর থানার পূর্ব বিরামপুর গ্রামে। ওই ছাত্রী চণ্ডীপুর ব্লকের বরোজ হাইস্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ত। শ্রাবণীর সঙ্গে থাকা তার সহপাঠী নীলা ভুঁইয়াকেও জোর করে কীটনাশক মেশানো পানীয় খাওয়ানো হয়েছিল। সে এখন তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর বেপাত্তা অভিযুক্ত যুবক আকাশ সামন্ত। তার বাড়ি চণ্ডীপুর থানার কুশলপুর গ্রামে। ওই থানার ওসি দীপককুমার অধিকারী বলেন, ঘটনায় এফআইআর হয়েছে। আমরা অভিযুক্ত যুবকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছি। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক বেপাত্তা।
Advertisement
গত ১৮জানুয়ারি বরোজ হাইস্কুলের ছাত্রী শ্রাবণী ও নীলা সরস্বতী পুজোর কার্ড নিয়ে চাকনান, ঝাউতলা সহ একাধিক স্কুলে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিল। সেইসময় শ্রাবণীর পথ আটকায় আকাশ। বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মুখের উপর সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শ্রাবণী। এরপরই তার কাছে থাকা ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার অফার করে। সেই অফারও নাকচ করে ওই ছাত্রী। তখন আকাশ জোর করে শ্রাবণী এবং নীলা দু’জনকেই তা খাওয়ায়। তারপর থেকেই দুই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের এড়াশাল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে আগাছানাশক মেশানো ছিল। তাই দুই ছাত্রী বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। রবিবার সকাল থেকেই শ্রাবণীর শারীরিক অবস্থা অতি সঙ্কটজনক হয়ে পড়ে। বেলা ২টোয় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
অভিযুক্ত যুবক পেশায় রাজমিস্ত্রি। শ্রাবণীর বাড়ির কাছে একজনের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিল সে। সেইসময় দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে দেখে তার ভালো লেগে যায়। তারপর থেকেই ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা শুরু হয়। স্কুল কিংবা টিউশনি যাওয়ার পথে বারবার বিয়ের প্রস্তাব দিত। প্রতিবারই সেই প্রস্তাব খারিজ করত ওই ছাত্রী। শেষমেশ ১৮জানুয়ারি পরিকল্পনা করে পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ওই ছাত্রীকে শেষবারের মতো বিয়ের প্রস্তাব দিতে হাজির হয়। অন্যবারের মতো এবারও শ্রাবণী সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। তারপরই খুন করার পরিকল্পনা নিয়ে জোর করে বিষ মেশানো পানীয় খাইয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
মৃত ছাত্রীর বাবা তপনকুমার ভুঁইয়া বলেন, অভিযুক্ত যুবক আমাদের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজে এসেছিল। সেইসময় মেয়েকে দেখে। তারপর থেকেই মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। আমার মেয়ে বাড়িতে এসে সেকথা জানায়। আমরা ওই যুবককে কয়েকবার সতর্ক করেছি। তাতেও সে নিজেকে শোধরায়নি। বরং ১৮তারিখ স্কুলে স্কুলে সরস্বতী পুজোর কার্ড বিলি করতে যাওয়ার সময় আমাকে মেয়ে ও তার সঙ্গে থাকা আর একজনকে কীটনাশক মেশানো পানীয় খাইয়ে দেয়। তারপর থেকেই দু’জনে অসুস্থ হয়ে পড়ে। রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ে মারা যায়। আমার এক ছেলে ও মেয়ে। মেয়ে এভাবে অকালে চলে যাবে কল্পনা করতে পারিনি। আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যে দায়ী তার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
(মৃতের শোকার্ত পরিবার।-নিজস্ব চিত্র)
অভিযুক্ত যুবক পেশায় রাজমিস্ত্রি। শ্রাবণীর বাড়ির কাছে একজনের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিল সে। সেইসময় দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে দেখে তার ভালো লেগে যায়। তারপর থেকেই ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা শুরু হয়। স্কুল কিংবা টিউশনি যাওয়ার পথে বারবার বিয়ের প্রস্তাব দিত। প্রতিবারই সেই প্রস্তাব খারিজ করত ওই ছাত্রী। শেষমেশ ১৮জানুয়ারি পরিকল্পনা করে পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ওই ছাত্রীকে শেষবারের মতো বিয়ের প্রস্তাব দিতে হাজির হয়। অন্যবারের মতো এবারও শ্রাবণী সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। তারপরই খুন করার পরিকল্পনা নিয়ে জোর করে বিষ মেশানো পানীয় খাইয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
মৃত ছাত্রীর বাবা তপনকুমার ভুঁইয়া বলেন, অভিযুক্ত যুবক আমাদের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজে এসেছিল। সেইসময় মেয়েকে দেখে। তারপর থেকেই মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। আমার মেয়ে বাড়িতে এসে সেকথা জানায়। আমরা ওই যুবককে কয়েকবার সতর্ক করেছি। তাতেও সে নিজেকে শোধরায়নি। বরং ১৮তারিখ স্কুলে স্কুলে সরস্বতী পুজোর কার্ড বিলি করতে যাওয়ার সময় আমাকে মেয়ে ও তার সঙ্গে থাকা আর একজনকে কীটনাশক মেশানো পানীয় খাইয়ে দেয়। তারপর থেকেই দু’জনে অসুস্থ হয়ে পড়ে। রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ে মারা যায়। আমার এক ছেলে ও মেয়ে। মেয়ে এভাবে অকালে চলে যাবে কল্পনা করতে পারিনি। আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যে দায়ী তার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
(মৃতের শোকার্ত পরিবার।-নিজস্ব চিত্র)



