Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিয়ের দু’দিন আগে ফাঁসিদেওয়ায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার ক্যানালে

বিয়ের দু’দিন আগে ফাঁসিদেওয়ায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার ক্যানালে
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিয়ের একদিন আগে উধাও সব্জি ব্যবসায়ী। নিখোঁজের দু’দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফাঁসিদেওয়ায় ক্যানালের জল থেকে উদ্ধার সেই ব্যবসায়ীর মৃতদেহ। তাঁর নাম শিবম পালিত (২৩)। শুক্রবার এনিয়ে মৃতের আত্মীয়রা খুনের অভিযোগ তুললেও তা ফাঁসিদেওয়া থানা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ। যদিও পুলিসের একাংশের সন্দেহ, বিয়ের শপিং নিয়ে পারিবারিক অশান্তির জেরে ওই ব্যবসায়ী আত্মঘাতী হয়েছেন। সমগ্র ঘটনা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিস। 
Advertisement
দার্জিলিং জেলা পুলিসের এসডিপিও (নকশালবাড়ি) নেহা জৈন অবশ্য বলেন, ক্যানেলের জল থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের ওই ঘটনা নিয়ে থানায় এখনও কোনও অভিযোগ হয়নি। পুলিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঠিক নয়। তবে ওই ঘটনা নিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনজেপি থানার গোড়ামোড়ে ওই সব্জি ব্যবসায়ীর বাড়ি। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেড় বছর ধরে সেখানে এক যুবতীর সঙ্গে ঘর করছিলেন তিনি। ওই যুবতীর সঙ্গেই সব্জি ব্যবসায়ীর বিয়ে ঠিক হয়। বুধবার তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এই অবস্থায় সোমবার ব্যবসায়ী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার রাতে ফাঁসিদেওয়ার লিউসিপোখরিতে ক্যানেলের জলে মেলে তাঁর মৃতদেহ। মৃতের দাদা সুমন পালিতের অভিযোগ, বিয়ের শপিং নিয়ে হবু স্ত্রীর সঙ্গে ভাইয়ের ঝামেলা হয়েছিল।  আরও কিছু বিষয়ে মতবিরোধ হয়েছিল। থানায় সব জানানো হয়েছে। 
শুক্রবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদেহের একাধিক জায়গায় চোট ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃতের আত্মীয় প্রফুল্ল ভৌমিক বলেন, এদিন ফাঁসিদেওয়া থানায় এ ব্যাপারে খুনের অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু পুলিস অভিযোগ নেয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিস জানিয়েছে। 
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিস চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, সোমবার রাতে ওই যুবক মোবাইল ফোনে মা’র সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলেন। এরপর নিখোঁজ হন। মঙ্গলবার ফুলবাড়িতে ক্যানেলের ধারে রাস্তা থেকে তাঁর স্কুটার ও মোবাইল ফোন মেলে। ওই দিনই এনজেপি থানায় নিখোঁজ ডায়ারি করে ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যরা। 
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিসের সন্দেহ, হবু স্ত্রীর সঙ্গে ঝামেলার জেরেই ওই ব্যবসায়ী ক্যানেলের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। ওই ব্যবসায়ীর বাবা দীর্ঘদিন আগেই মারা যান। তাঁর মা ও ভাই শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাগরাকোটে বসবাস করেন। স্থানীয় কাউন্সিলার তৃণমূল কংগ্রেসের সঞ্জয় শর্মা বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। ওই যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন, নাকি খুন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পুলিসের কাছে জানিয়েছি। এদিকে বারংবার চেষ্টা করেও মেয়েটির পরিবারের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ