সংবাদদাতা, বহরমপুর: আলুর পর এবার মুর্শিদাবাদে বোরো ধানের চাষও পিছিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ধানের চারা তিন-চার ইঞ্চি লম্বা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সিংহভাগ চাষি এখনও ধানের বীজতলাই তৈরি করে উঠতে পারেননি। কেউ কেউ অবশ্য বীজতলা তৈরি করে ধানের বীজ ছড়িয়েছেন। তবে তা খুবই সামান্য। এদিকে ঠান্ডা ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি বাড়ছে কুয়াশার দাপটও। শীত ও কুয়াশার জোড়া ফলায় ধানের চারার বৃদ্ধি ব্যাহত ও পাতার রঙ হলুদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা। চাষিদের বক্তব্য, এবার আলু চাষ পিছিয়ে যাওয়ায় আমন ধানই অনেকে এখনও ঘরে তুলতে পারেননি। আমন ধান খামারে তুলেই চাষিরা বীজতলা তৈরিতে হাত দেয়। আলু চাষে দেরি, পাকা আমন ধান ঘরে তুলতে দেরির কারণেই বোরো চাষও পিছিয়ে যাচ্ছে।
Advertisement
মুর্শিদাবাদ জেলায় ব্যাপক হারে বোরো ধান চাষ হয়। বোরোর জমিতে ডিপ টিউবওয়েল বা সাবমার্সিবলের মাধ্যমেই জল সেচ করা হয়। জেলায় বহু বিল রয়েছে, বর্ষায় ডুবে থাকায় যেখানে আমন চাষ হয় না। সেই সব বিল এলাকায় বোরো চাষ হয়। সাধারণত কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ বা অগ্রহায়ণের প্রথম থেকেই চাষিরা বীজতলা তৈরি করে ধানের বীজ ছড়াতে শুরু করেন। এবার অগ্রহায়ণ মাস শেষ হতে চললেও অনেকে বীজতলায় হাত লাগাতে পারেননি। চাষিদের দাবি, এবার বোরো চাষে প্রায় ১৫-২০ দিন পিছিয়ে গিয়েছে। বীজ তৈরির সঠিক সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় বীজের বৃদ্ধি নিয়ে অনেকে চিন্তায় পড়েছেন। সাবলপুর পঞ্চায়েতের কামদেববাটির বোরো চাষি মুকুল মণ্ডল বলেন, দু’দিন থেকে হাড় কাঁপানো শীত পড়েছে। সকাল থেকে ১১টা পর্যন্ত কুয়াশায় দাপটে পাঁচ ফুট দূরের জিনিসও নজরে আসছে না। অত্যধিক শীত আর কুয়াশার কারণে ধান চারার বৃদ্ধি হবে না। পাতা হলুদ হয়ে যাবে। রাসায়নিক সহ চূড়ান্ত পরিচর্যার দরকার পড়বে। কুরুন্নরুন পঞ্চায়েতের দুর্গির বোরো চাষি অপূর্ব ঘোষ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ডানার প্রভাবে সেভাবে চাষের ক্ষতি না হলেও ডানা এবার সব চাষই প্রায় পিছিয়ে দিয়ে গিয়েছে। মুর্শিদাবাদের তুলনায় বীরভূম, বর্ধমানের চাষিরা অনেক এগিয়ে রয়েছে। বোরো চাষ পিছিয়ে যাওয়ায় ফসল উঠতেও দেরি হবে। ফলে কালবৈশাখীর ধকলও চাষিদের সামলাতে হবে। পাশাপাশি বোরো চাষ পিছিয়ে যাওয়ায় পরবর্তী চাষেও তার প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে।



