Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিয়ের ছ’মাসের মধ্যে বধূর মৃত্যু, শিক্ষক স্বামীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

বিয়ের ছ’মাসের মধ্যে বধূর মৃত্যু, শিক্ষক স্বামীর ১০ বছরের কারাদণ্ড
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়া: বিয়ের ছ’মাসের মাথায় বধূর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ১০ বছরের কারদণ্ড হল শিক্ষক স্বামীর। বাঁকুড়া শহরের সিনেমা রোড এলাকার বাসিন্দা সাজাপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকের নাম অভিজিৎ কুণ্ডু। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক(ফাস্ট ট্র্যাক) দুর্গাশঙ্কর রাণা ওই সাজা শুনিয়েছেন। বছর দশেক আগের ওই ঘটনায় সোমবার অভিযুক্তদের আদালত দোষী সাব্যস্ত করে। এদিন বিচারক সাজা শোনান। ওই ঘটনায় স্বামীর পাশাপাশি মৃতার শাশুড়ি, দেওর ও দুই পিসি শাশুড়িকেও কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক। 
Advertisement
মামলার সরকারি আইনজীবী অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বাঁকুড়া সদর থানার জুনবেদিয়া গ্রামের বাসিন্দা বছর বাইশের সুমনা দত্তর সঙ্গে অভিজিতের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অভিজিৎ ও তার পরিবার মোটা অঙ্কের বরপণ দাবি করেছিল। পাত্রী পক্ষ তিন লক্ষ টাকা, তিন ভরি গয়না ও অন্যান্য সামগ্রী পাত্র পক্ষকে দেয়। বিয়ের পর অভিজিৎ ও তার পরিবার অতিরিক্ত বরপণ দাবি করে। দাবিমতো টাকা না পেয়ে তারা সুমনার উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতে থাকে। 
২০১৫ সালের ১৬ জুন দুপুর ২টো নাগাদ সুমনার বাবা সোমনাথ দত্তকে সিনেমা রোড এলাকার বাসিন্দারা ফোন করে মেয়ের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর জানান। সোমনাথবাবু দ্রুত এলাকায় পৌঁছন। ততক্ষণে স্থানীয় বাসিন্দারা সুমনাদেবীকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চলে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে অভিজিৎ, তার মা দীপালি কুণ্ডু দুই অবিবাহিতা পিসি সান্ত্বনা কুণ্ডু ওরফে বুনি ও শিপ্রা কুণ্ডু ওরফে টুনি ছিল। তারা যাতে পালাতে না পারে তারজন্য স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি ঘিরে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিস গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সোমনাথবাবু বাঁকুড়া সদর থানায় স্বামী সহ মোট সাত জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বধূর দেওর সত্যজিৎ কুণ্ডু ও বাকি দু’জনকে গ্রেপ্তার হয়। প্রমাণের অভাবে ওই দু’জনকে আদালত বেকসুর খালাস করে।
এই মামলায় মোট ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। মাঝে সাজাপ্রাপ্তরা জামিন পেয়েছিল। বধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর দায়ে এদিন স্বামীর ১০ বছরের কারাদণ্ড, ছ’হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজা হয়। একই অপরাধে বাকি চারজনে সাত বছরের কারদণ্ড, ছ’হাজার টাকা করে জরিমানা ও তা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজা হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ