Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেপরোয়া যুবকদের সচেতন করতে পথে বাইক দুর্ঘটনায় মৃতের পরিবার 

বেপরোয়া যুবকদের সচেতন করতে পথে বাইক দুর্ঘটনায় মৃতের পরিবার 
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কান্দি: বেপরোয়া বাইকের দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক। এমনভাবে আর যেন কারও প্রাণহানি না হয়। ক্ষতিপূরণ না নিয়ে এই সচেতনতার বার্তাই দিচ্ছেন দুর্ঘটনায় মৃতের পরিবারের লোকজন। শনিবার রাতের এই ঘটনা সালার থানার পুনুশি গ্রামের। শুক্রবার রাতে পরিবারের কর্তা সামসের শেখ (৫৮) বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় জখম হন। এরপর শনিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। রাতের দিকে দেহ বাড়িতে ফিরতেই ওই সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।
Advertisement
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুঃস্থ পরিবারের মানুষ ছিলেন ওই প্রৌঢ়। দুই মেয়ে ও এক ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। তবে এই বয়সেও তিনি সমানে পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন। গ্রামের মাঠের দিকে একজনের একটি সাবমার্সিবল দেখাশুনা করতেন।
সেই হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রৌঢ় বাড়ি থেকে সাইকেলে চড়ে মাঠের দিকে রওনা দেন। কিন্তু গ্রাম পেরনোর পরেই তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। গ্রাম থেকে বেরনোর পরেই উল্টোদিক থেকে একটি দ্রুত গতিতে আসা বাইক কার্যত তাঁকে সাইকেল সহ উড়িয়ে দেয়। এরপর মাঠের চাষিরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সালার গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে শনিবার সকালে তিনি মারা যান। এরপর শনিবার রাত ১০টা নাগাদ দেহ বাড়িতে ফিরলে গ্রামজুড়ে শোক নেমে আসে।
বাসিন্দারা জানান, শুধু এই গ্রাম বলে নয়। কার্যত সালার থানার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়দিন বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় জখম হচ্ছেন। এমনকী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকমাস ধরে এলাকায় এই বেপরোয়া বাইক দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠে আসছে। 
মৃতের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার দিন গ্রামেরই দুই যুবক ওই বাইকে ছিল। ওরা বেপরোয়াভাবে বাইক চালাচ্ছিল। এমনকী দুর্ঘটনার পর বাইক নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয় এড়েরা গ্রামের বাসিন্দা রহিম শেখ বলেন, মৃত প্রৌঢ় আমার বন্ধু ছিল। ওইদিন আমরা দুইজনে একসঙ্গে দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম ওই দুর্ঘটনার কথা।
মৃতের পরিবারের দাবি, বাইক চালকরা মানবকিতার দিকটা চিন্তা করলে হয়তো সময়মতো প্রৌঢ়কে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারত। সেক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনা নাও হতে পারত। পরে গ্রামের কয়েকজন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন পরিবারের লোকজন। মৃতের স্ত্রী কাজেরা বিবি বলেন, কারও কাছে কোনও ক্ষতিপূরণ আমরা নিতে চাই না। শুধু একটি কথা বলতে চাই, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। বেপরোয়া বাইকের উৎপাত বন্ধ হোক। এভাবে যেন আর কেউ মারা না যান। ওই যুবকদের শুভবুদ্ধি হোক। ওদের বিবেক জেগে উঠুক। মৃতের ভাই হেকমত শেখ বলেন, বাইক চালানোর সময় সচেতন থাকলে কারও প্রাণ যাওয়ার কথা নয়। ক্ষতিপূরণ না নিয়ে এই বার্তাই আমরা দিতে চাইছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ