Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিপ্লবীদের পীঠস্থান খঞ্চিতে মদ, জুয়ার আসর, সমস্যায় পড়ুয়া ও মহিলারা

বিপ্লবীদের পীঠস্থান খঞ্চিতে মদ, জুয়ার আসর, সমস্যায় পড়ুয়া ও মহিলারা
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্বাধীনতা আন্দোলনে বিদ্যুৎ বাহিনীর পীঠস্থান নন্দকুমার ব্লকের খঞ্চি এখন মদ, জুয়া আর লোটোর আঁতুড়ঘর। একসময় বিপ্লবীদের শক্তঘাঁটিতে যাতায়াতের পথে অশ্লীল মন্তব্যের মুখোমুখি হচ্ছে স্কুলছাত্রীরা। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলাশাসক এবং পুলিস সুপারের দ্বারস্থ হন। এলাকায় সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে তাঁরা জেলা প্রশাসন ও পুলিসের শীর্ষ অফিসারদের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন। অবাধে মদ, জুয়া ও লোটোর উৎপাত থেকে রেহাই পেতে নন্দকুমার থানার ওসিকে গণস্বাক্ষরিত ডেপুটেশন দিয়েছেন খঞ্চির বাসিন্দারা। পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, স্থানীয়রা যে অভিযোগ তুলেছে, তা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Advertisement
নন্দকুমার ব্লকে বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে খঞ্চি। হলদিয়া-কোলাঘাট জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত এই এলাকা বেশ জনবহুল। ব্যবসা বাণিজ্যের দিক থেকেও এগিয়ে থাকা একটি জনপদ। এই তল্লাটে খঞ্চি গুণধর আদর্শ বিদ্যাপীঠ, খঞ্চি ধনঞ্জয় বালিকা বিদ্যালয়, খঞ্চি শ্রীনাথ উচ্চ প্রাথমিক, নার্সারি সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন বহু ছাত্রছাত্রী এই এলাকা দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। তাছাড়া, জাতীয় সড়কে খঞ্চি বাসস্টপ থেকে কাছারিপাড়া, পূর্বপাড়া, দক্ষিণপাড়া, বাসুদেবপুর এবং নন্দকুমার যাওয়ার মূল রাস্তা। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বৈধ এবং অবৈধ মদের দোকানে ছেয়ে গিয়েছে। তারউপর জুয়া এবং লোটোর উৎপাত বাড়ছে। তাতে সাধারণ পরিবারের লোকজন সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। 
ওই এলাকার তাপস জানা, দীপেন্দ্র প্রধান, জয়দেব সাঁতরা, সন্ধ্যা জানা, মিঠু জানা সহ ১২২জন গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে ৯ডিসেম্বর জেলাশাসক ও পুলিস সুপারের অফিসের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা অধিকাংশই অভিভাবক। বাড়ির ছেলেমেয়েরা স্কুল, কলেজে যাতায়াত করে। খঞ্চিতে বিভিন্ন সময়ে ইভটিজিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্বাধীনতার আগে এই খঞ্চি ছিল বিদ্যুৎ বাহিনীর পীঠস্থান। সেখানে প্রহ্লাদচন্দ্র পাত্র, ধীরেন্দ্রনাথ ঘোড়াই, প্রহ্লাদ সামন্ত, উপেন্দ্রনাথ জানা এবং কালীপদ দে ও মৃত্যুঞ্জয় দে-র মতো সংগ্রামীরা ইংরেজদের মোকাবিলার পরিকল্পনা রচনা করতেন। অথচ, অতীতের গৌরব ভুলে সেই খঞ্চি আজ নেশাগ্রস্তদের দখলে। সন্ধ্যার পর মাদক ও জুয়ার রমরমা কারবারে মানুষজন অতিষ্ঠ।
খঞ্চির বাসিন্দা মায়ারানি জানা, হরিপদ শাসমল বলেন, হলদিয়া থেকে কোলাঘাটগামী ৪১জাতীয় সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা খঞ্চি। এই জায়গার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় নানা অসাধু মানুষজন খঞ্চিকে তাদের ব্যবসার জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে। স্কুল থেকে দু’শো মিটার দূরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান। আর অবৈধ দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি। দূরদূরান্তের মানুষের আসা যাওয়া বেড়েছে। এরকম একটি জায়গাকে অবৈধ জুয়ার ঠেক বসছে। তাতে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষজন সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন ৩০০-র বেশি স্কুল পড়ুয়ারা এই জায়গা দিয়ে যাতায়াত করে। তারা মদ, জুয়া, সাট্টা কাউন্টারের পাশ দিয়ে যাতায়াত করছে। মাঝেমধ্যে অশ্লীল মন্তব্য উড়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিসের সেভাবে হেলদোল নেই। তা‌ই জেলাশাসক ও পুলিস সুপারের দ্বারস্থ হয়েছি।
সম্পর্কিত সংবাদ