Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সীমান্ত সুরক্ষা লবডঙ্কা, অ্যাক্টিং প্রাইম মিনিস্টার দেশ চালাচ্ছেন, নাম না করে অমিত শাহকে তোপ মমতার

সীমান্ত সুরক্ষা লবডঙ্কা, অ্যাক্টিং প্রাইম মিনিস্টার দেশ চালাচ্ছেন, নাম না করে অমিত শাহকে তোপ মমতার
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, বহরমপুর: সামশেরগঞ্জ-ধুলিয়ানের অশান্তির নেপথ্যে কার হাত? তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর কিছুদিনের মধ্যেই তা জনসমক্ষে নিয়ে আসবেন বলে নিজেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখোশ খুলবেন রাজ্যের শান্তি ভঙ্গকারীদের। তবে তার আগে, সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদে হাঙ্গামা নিয়ে সোমবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বহিরাগত কট্টরপন্থী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্ল্যানমাফিক অশান্তি করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই কাজে ব্যবহৃত অর্থের উৎস কোথায়, তা খুব ভালোভাবে জানে বিজেপি। এই প্রেক্ষাপটেই সীমান্ত সুরক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নাম না করে অমিত শাহের বিরুদ্ধে বাংলার অগ্নিকন্যার তোপ, ‘সীমান্ত সুরক্ষায় লবডঙ্কা, অথচ অ্যাকটিং প্রাইম মিনিস্টার হয়ে দেশ চালাচ্ছেন!’ এই মন্তব্যের কারণ? একদিকে বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যে অশান্তি, আর অন্যদিকে টালমাটাল কাশ্মীর সীমান্ত। সেই কারণেই পাকিস্তানি জঙ্গিরা অবাধে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে নিরীহ পর্যটকদের খুন করেছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই জড়িত সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গ। তার দায়িত্বে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পরই মমতার পরামর্শ, ‘আমি ওঁকে বলব, সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে মন না দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষার কাজে বেশি করে মন দিতে।’ 

Advertisement

সোমবার দুপুর ১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামে বহরমপুরে। দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনার মাঝেই হেলিপ্যাড থেকে তাঁর গাড়ি পৌঁছয় সোজা জেলাশাসকের অফিস কমপ্লেক্সে। মুর্শিদাবাদ জেলা রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির অফিসে তিনি বৈঠকে বসেন সাংসদ-বিধায়কদের নিয়ে। ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং ডিজি রাজীব কুমারও। বৈঠকে সামশেরগঞ্জ-ধুলিয়ানের অশান্তি নিয়ে জেলা নেতৃত্বের মতামত শোনেন মমতা। বৈঠক শেষে ওই অফিসের বাইরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বহিরাগত কিছু লোক এসে ধর্মের নামে বিধর্মী কথা বলে অশান্তি লাগিয়ে দিল। আর ঘটনা ঘটিয়ে তারাই সবথেকে আগে পালিয়ে গেল। এরা গৃহশত্রু, দেশের শত্রু, বাংলার শত্রু। আমি কাউকে শত্রু বলে মনে করি না। কিন্তু যারা অশান্তি লাগায়, তাদের আমি মিত্র বলেও মনে করি না। মনে রাখবেন, বাংলা এসব বরদাস্ত করবে না।’ 
এদিন বিজেপিকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মমতা। তিনি বলেন, ওরা পর্দার আড়ালে থেকে ছুপা রুস্তমের মতো কাজ করছে। আর সেই কারণেই গেরুয়া শিবিরকে তিনি ‘হেভি লোডেড ভাইরাসে’র সঙ্গে তুলনা করেন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভেদ সৃষ্টির দাবির পাশাপাশি দেশ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ কথা, ‘এসব না করে ভারতকে বাঁচান। যে নিরপরাধ পর্যটকরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করুন।’ সামশেরগঞ্জে অশান্তির বলি হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের পরিবারকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া নিয়েও বিজেপিকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই কারণে মঙ্গলবার তিনি প্রথমে সামশেরগঞ্জে বিডিও অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। তারপর যাবেন সূতির পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ