Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২০০২’র তালিকায় ভোটারশূন্য বুথ! মাথায় হাত অশোকনগরের বাসিন্দাদের, বিতর্ক

রাজ্যে চালু হয়েছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)

২০০২’র তালিকায় ভোটারশূন্য বুথ! মাথায় হাত অশোকনগরের বাসিন্দাদের, বিতর্ক
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যে চালু হয়েছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)। এই পর্বেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর বিধানসভার অন্তর্গত গুমা ১ পঞ্চায়েত এলাকায় ৬১ নম্বর বুথের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে ৭১ জন ভোটারের নাম মিসিং। শুধু তাই নয়, ২০০২ সালে পুরোনো ৫৪ নম্বর  বুথের (বর্তমানে ১৫৯ নং) ৮৪২ জন  ভোটারের নাম কমিশনের নিজস্ব পোর্টাল থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। দুটি বিষয় জানার পরই অশোকনগরের বিধায়ক তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী লিখিত অভিযোগ করেছেন জেলাশাসককে। পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন।
২৩ বছর পর ফের এ বাংলায় চালু হয়েছে এসআই আর। জাতীয় নির্বাচন কমিশন ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকেই ভিত্তি হিসেবে ধরেছে। ২০০২ ও ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা ম্যাপিং করানো হয়েছে। ম্যাপিংয়ে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ২০০৩ সালে আপলোড হওয়া ভোটার তালিকায় কোনও ভোটারের নাম না থাকলে, প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে হবে তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে অশোকনগর বিধানসভার গুমা ১ পঞ্চায়েত এলাকায় দুটি বুথের ২০০২ সালের ভোটারদের নাম কমিশনের নিজস্ব পোর্টাল থেকে আশ্চর্য ভাবে মিসিং হয়ে গিয়েছে। শুধু ২০০২ নয়, চলতি ২০২৫ পর্যন্ত ওই ১৫৯ নম্বর বুথে যতজন ভোটার হয়েছেন, প্রত্যেকের নাম ‘ভোজবাজির’ মতো উধাও হয়েছে কমিশনের পোর্টাল থেকে। 
জানা গিয়েছে , অশোকনগর বিধানসভার অন্তর্গত গুমা ১ পঞ্চায়েতের ৬১ নম্বর বুথের যেমন ৭১ জন ভোটারের নাম উধাও, তেমনই কমিশনের পোর্টাল থেকে মিসিং ওই একই পঞ্চায়েতের ১৫৯ নম্বর বুথের সমস্ত ভোটারের নাম। ডিলিমিটেশনের আগে এই বুথের নম্বর ছিল ৫৪, তখন ছিল ৪৩৬ জন ভোটার। পরে তা বেড়ে হয়েছে ৮৪২। ১৫৯ নম্বর বুথের ভোটার আবু কালাম মণ্ডল বলেন, গত লোকসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। ভোটও দিয়েছি গুমা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। কিন্তু এবার আমাদের বুথটাই পাচ্ছি না। এটা কীভাবে হল! আরেক ভোটার কেষ্ট ঘোষ বলেন, বিষয়টি জানার পরেই আতঙ্ক হচ্ছে। অন্যদিকে, গুমা ১ পঞ্চায়েতের ৬১ নম্বর বুথের ৩৪৩ থেকে ৪১৪ সিরিয়ালের মধ্যে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সাদিক সাহাজির নাম নেই। প্রধান জেসমিন সাহাজি বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের গাফিলতি। 
 নিজের কেন্দ্রের বৈধ ভোটারের নাম এবং গোটা বুথ উধাও হয়ে যাওয়াতে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন নারায়ণ গোস্বামী। তিনি বলেন, বারবার বলছি, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে এসআইআরের মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেবে। আর সেটাই হচ্ছে আমার বিধানসভায়। যোগ্য ভোটারের নাম যদি বাদ যায়, আন্দোলন শুরু হবে।

Advertisement


 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ