নিজস্ব প্রতিনিধি, মেমারি: প্রয়াত বামনেতা বিনয় কোঙারের খাস তালুক মেমারি। সেই সিপিএম নেতা যিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চারটি পঞ্চায়েতকে আমরা নন্দীগ্রাম দিয়ে ঘিরে ফেলব। ওদের লাইফ হেল হয়ে যাবে। সেই নন্দীগ্রামের মানুষের জীবন বিনয়বাবুর দল হেল করতে পারেনি। উল্টে সেখান থেকেই বামেদের সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে। তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। অন্যান্য এলাকার মতো বিনয়বাবুর তালুকেও লালঝাণ্ডা ফিকে হয়ে গিয়েছিল। রাজ্যে পালা বদলের বছরেও বামেদের ভোট ছিল ৪৬.৫২ শতাংশ। ২০২১ সালে তাদের ভোট নেমে আসে ১১.৭১ শতাংশে। বিজেপির ভোট বেড়ে হয় ৩৭.৩৭ শতাংশ। সোজা অঙ্ক, বামেদের ভোটেই পদ্মফুল ফুলেফেঁপে ওঠে। এবার সিপিএম তাদের ভোট বাড়াতে না পারলে আগামী দিনে এরিয়া কমিটির অফিস খোলার লোক থাকবে কি না, তা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সিপিএমের দাবি, এবার তাদের হাল ফিরবে। মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। তারা বুঝেছে, হাল একমাত্র বামেরাই ফেরাতে পারে। সিপিএম প্রার্থী কৃষানু বোড়া প্রচারে গিয়ে চাষিদের সমস্যার কথা বলছেন। এবছর আলুর দাম না পাওয়ায় চাষিদের কী অবস্থা হয়েছে, সেটা তিনি বলছেন। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রাম বাংলার মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে পাড়ায় পাড়ায় যাচ্ছেন। সিপিএম প্রার্থী বলেন, মানুষের পাশে একমাত্র বামেরা থাকে। যারা ভুল বুঝে অন্যত্র গিয়েছিল, তারাও ফিরে আসছে।
বিজেপি এই বিধানসভা কেন্দ্রে মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, বিজেপি অনেক বড় দল। এই দলে অনেক দাবিদার থাকে। তাদের মধ্যে সেরাজনকেই বেছেই নেওয়া হয়।
মেমারি স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন শিউলি ঘোষ নামে এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, যা সুবিধা পাওয়ার তৃণমূলের জমানেতই পেয়েছি। লক্ষ্মীরভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প চালু হওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ পরিবারগুলি ব্যাপক উপকৃত হয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এটাই তৃণমূলের শক্তি। বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি গ্রামের বাসিন্দারা উপকৃত হয়েছেন। রাস্তা সংস্কার থেকে পথবাতি বসানোর কাজও হয়েছে। তৃণমূল সেসব কাহিনী তুলে ধরেই প্রচার করছে। দলের প্রার্থী রাসবিহারী হালদার বলেন, এই বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারা বহুদিন আগেই সিপিএমকে সরিয়ে দিয়েছে। বিজেপি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাতে কাজ হয়নি। মেমারিতে রেল অনেক আগে ওভারব্রিজ তৈরির আশ্বাস দিয়েছিল। সেটা হয়নি। ওরা এসআইআরের নামে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে। তার জবাব ভোটাররা বিজেপিকে ইভিএমে দেবে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিনয় কোঙারের তালুকে এবার সিপিএম গ্রামে গ্রামে ঘুরছে। বিজেপির প্রতি বিভিন্ন কারণে মানুষের সেই আস্থা নেই। এই অবস্থাতেও যদি মেমারিতে বিনয়বাবুর দল ভোট বাড়াতে না পারে তাহলে ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা অনেকেই অনুমান করতে পারছেন।