সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: জাসসি য্যায়সা কোই নেহি!
সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: জাসসি য্যায়সা কোই নেহি!
শুক্রবারের নন্দনকাননের রিংটোন এটাই। চার স্পিনার নিয়ে নেমেছিল ভারত। আর বাইশ গজে আগুন ঝরালেন পেসাররা। থুড়ি, যশপ্রীত বুমরাহ। মাত্র ২৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে সফরকারী দলকে দুমড়ে-মুচড়ে দিলেন তিনি। নিখুঁত নিশানা, লেংথের বৈচিত্র্য ও রিভার্স সুইংয়ের মাস্টারক্লাসই মেলে ধরলেন ৩১ বছর বয়সি। ৫১ টেস্টে ২৩১ উইকেট হয়ে গেল বুমরাহর। টপকে গেলেন মহম্মদ সামিকে (৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট)। যদি এই মেজাজে থাকতে পারেন, ‘বুমবুম’ কোথায় যে থামবেন!
অথচ, সমালোচনা নিত্যসঙ্গী তাঁর। ফিটনেস সমস্যায় খেলতে না পারলেই ধেয়ে আসে প্রশ্ন। আর সে জন্যই টেস্টে ১৬তম পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে পৌঁছলেন রীতিমতো গনগনে মেজাজে। সমালোচকদের একহাত নিয়ে বললেন, ‘আমি যতটা সম্ভব খেলার চেষ্টা করি। প্রতিটা ফরম্যাটেই নিজেকে উজাড় করে দিই। তবে পুরনো চোটের কথা ভেবে শরীরের খেয়ালও রাখত হয়। কেউ তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সেটা তার ব্যাপার। উত্তর দেওয়ার দায় আমার নেই। প্রশ্নোত্তরের খেলা যাঁরা খেলতে চান তাঁরা খেলুন! দলের প্রতি অবদান রাখতে পারলেই আমি খুশি। এভাবেই খেলে এসেছি, খেলবও।’
দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরের অনুযোগ, পিচের অসমান বাউন্সই তাঁদের দুর্দশার জন্য দায়ী। বুমরাহ অবশ্যই তা মানছেন না। মুচকি হেসে তাঁর বক্তব্য, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঁচ সেশনে টেস্ট শেষ হয়ে যায়। আবার ইংল্যান্ডে একরকম কন্ডিশন, তো অস্ট্রেলিয়ায় আর একরকম। তাই উইকেট কেমন হওয়া উচিত, তার কোনও সহজ সরল সমীকরণ নেই। সর্বত্রই আলাদা চ্যালেঞ্জ। টেস্টের সৌন্দর্য এটাই। বিভিন্নরকম কন্ডিশনে সফল হওয়ার মতো স্কিল দরকার। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মানিয়ে নেওয়া আমাদের কর্তব্য।’ যেন বলতে চাইলেন, পিচ নিয়ে কাঁদুনি গাওয়া অন্তত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলের শোভা পায় না! উল্লেখ্য, এটাই ছিল ইডেনে বুমরাহর প্রথম টেস্ট। আর তাতেই সুপারহিট তিনি। সাফল্যের রেসিপি কী? বুমরাহর জবাব, ‘এটা মোটেই মরা পিচ নয়, তবে ধৈর্য ধরা জরুরি। অহরহ ম্যাজিক বলের খোঁজ করলে হয় না। ক্রমাগত চাপ বজায় রাখতে হয়। তাহলেই উইকেট আসবে।’
ভারতের লক্ষ্য বড় রানের লিড। আর বাভুমারা মরিয়া প্রতিপক্ষের ইনিংসে দ্রুত রাশ টানতে। বিকেলের দিকে ক্লাবহাউসে দাঁড়ানো সৌরভ গাঙ্গুলির গলায় নিখাদ মুগ্ধতা, ‘ম্যাচ কতদিন গড়াবে, তা পুরোপুরি ভারতীয় ব্যাটিংয়ের উপর নির্ভর করছে। অর্ধেকটা বুমরাহই সেরে রেখেছে। ও কত বড় বোলার, তা আবার বোঝাল।’ জল্পনা একটাই, বুমরাহকে যথাযথ মর্যাদা দিতে পারবেন তো ব্যাটাররা!