Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বই-খাতা ভেসেছে বন্যায়, পড়াশোনা শিঁকেয় উঠেছে বাঁধে আশ্রিত শিশুদের

ভূতনিতে গঙ্গা নদীর ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতির জেরে এক মাস ধরে পড়াশোনা শিঁকেয় উঠেছে কেশরপুর সহ বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের শিশুদের

বই-খাতা ভেসেছে বন্যায়, পড়াশোনা শিঁকেয় উঠেছে বাঁধে আশ্রিত শিশুদের
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সাগর রজক, মানিকচক: ভূতনিতে গঙ্গা নদীর ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতির জেরে এক মাস ধরে পড়াশোনা শিঁকেয় উঠেছে কেশরপুর সহ বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের শিশুদের। একদিকে বিশাল জলরাশি ও অন্যদিকে লোকজনের আনাগোনা দেখে ও খেলাধুলোয় কাটছে তাদের সময়। ফলে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। 

Advertisement

মালদহ জেলার মানিকচক ব্লকের ভূতনির তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত দু’সপ্তাহ ধরে জলমগ্ন। অন্যদিকে, এক মাস ধরে চলা গঙ্গা ভাঙনের জেরে বারবার ঠিকানা বদল করেছে বহু ভাঙন কবলিত পরিবার। এই অবস্থায় তাদের বর্তমানে ঠিকানা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁধ। সেখানেই বসবাস করছে পাঁচ শতাধিক পরিবার। এসব পরিবারে পাঁচ শতাধিক শিশু রয়েছে। চারদিক জলমগ্ন থাকায় বন্ধ তাদের স্কুল। পড়াশোনা বন্ধ থাকায় বাঁধের উপর খেলাধুলো করেই তাদের সময় কাটছে। মাঝেমধ্যে সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ এলে টিনের নৌকা করে ছুটতেও দেখা যায় তাদের। এমতাবস্থায় এই শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ভাঙন ও বন্যা কবলিত অভিভাবকরা। 
কেশেরপুর বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মিনা মাহাত বলেন, বাঁধে থাকা শিশুদের পড়াশুনা একেবারে বন্ধ। বাঁধে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত শিশুদের পড়াশোনার কোনো ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টিতে নজর দিক।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূতনির তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫২টি স্কুল রয়েছে। যার মধ্যে তিনটি উচ্চ বিদ্যালয়, দু’টি জুনিয়র হাইস্কুল, একটি মাদ্রাসা এবং ৪৬টি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। সমস্ত জায়গা জলমগ্ন থাকায় বর্তমানে স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ভাট্টা কার্তিকটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় একেবারে গঙ্গার গা ঘেঁষে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ওই স্কুলটি ভাঙনে তলিয়ে যেতে পারে। মানিকচকের তিনটি ত্রাণ শিবিরে শিশুদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। তবে বাঁধে অস্থায়ী ভাবে আশ্রয় নেওয়া শিশুদের পড়াশোনার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। 
যদিও এবিষয়ে মানিকচক চক্রের এসআই জেবেন্নেসা খাতুন বলেন, বাঁধে থাকা বহু শিশুর পরিবারকে উদ্ধার করে ইতিমধ্যে ত্রাণ শিবিরে আনা হয়েছে। বর্তমানে এখনও যারা রয়েছে তাদেরকেও আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা ত্রাণ শিবিরে এলেই শিশুদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে। তবে যে সমস্ত শিশুর পরিবার আসতে চাইছে না তারা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশ দেবে সেভাবেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা সবসময় দুর্গতদের পাশে আছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ