Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বইয়ের নেশা, দেখা-কেনায় বেসামাল ভিড় শেষ রবিবার

আধ শোয়া অবস্থায় মহাদেব। পোস্টারে লেখা, ‘নেশা মানেই বই’। স্টলের বাইরে এমন চমকদার পোস্টার দেখে চোখ আটকে গেল উৎসাহী পাঠকের।

বইয়ের নেশা, দেখা-কেনায় বেসামাল ভিড় শেষ রবিবার
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোহম কর, কলকাতা: আধ শোয়া অবস্থায় মহাদেব। পোস্টারে লেখা, ‘নেশা মানেই বই’। স্টলের বাইরে এমন চমকদার পোস্টার দেখে চোখ আটকে গেল উৎসাহী পাঠকের। তিনি হয়তো ভাবছিলেন, কী এমন বই পাওয়া যাচ্ছে এই স্টলে, একবার ঢুঁ মারলেই হয়! কিন্তু ঢুকবেন কীভাবে! চলমান ভিড়ের ধাক্কায় তিনি তো ততক্ষণে পৌঁছে গিয়েছেন অন্য বুক স্টলের সামনে! সবে মাসমাইনে হয়েছে। তার উপর বইমেলার শেষ রবিবার। এদিনটা ‘মিস’ করলে আর হয়তো বইমেলায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন না অনেকে। তাই বেসামাল ভিড়ের সাক্ষী থাকল বইমেলা। এই ভিড়ভাট্টায় হতোদ্যম হলেন না বইপোকারা। বই হাতে নিয়ে উলটে-পালটে দেখা-কেনা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-সেলফি, ফুড কোর্টে পেটপুজো, তারপর গরম চায়ে চুমুক দিয়ে বইয়ের প্যাকেট হাতে বাড়ির পথ ধরা। শেষ রবিবার বই-পার্বণের যাবতীয় আনন্দ এভাবেই চেটেপুটে নিলেন বইপ্রেমীরা।

Advertisement

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কিত একটি বই সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বারাকপুরের শৈবাল ঘোষ। তিনি বললেন, ‘আমি আর কোথাও যেতেই পারিনি এখনও। এই বইটা নেওয়ার জন্য অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি।’ তরুণী কবি তখন তাঁর প্রথম বইয়ের প্রকাশকের কাছ থেকে জেনে নিচ্ছেন, ‘আমার বই ভালো কাটছে তো?’ বইমেলায় একটা অদ্ভুত বিভাজন আছে! যা রবিবারের ভিড়ে আরও প্রকট। কারা মেলার ‘দর্শনার্থী’, আর কারা ‘বই পোকা’? মানে কারা বেশি কুলীন? এক্ষেত্রেও হাঁটা-চলা, সাজ-পোশাক দেখেই বিচার হয়! কিন্তু কার বিচার কে করে! খাবার দোকানে লাইন আর বইয়ের দোকানের লাইন, দুই-ই তো বেশ লম্বা। সেই ভিড়ের মধ্যে কেউ যদি সেলফি তুলতে দাঁড়িয়ে পড়েন, পাশ থেকে বইয়ের ব্যাগ সামলাতে না পারা কেউ ঠোঁট বেকিয়ে বলে উঠবেন, ‘বইমেলায় এসবই করতে আসে মনে হয়!’ ভিড়ের মধ্যে টিপ্পনিতে বাঙালি কবে আর কাকে ছেড়ে কথা বলেছে! তাই পালটা মন্তব্য ধেয়ে আসে, ‘বইমেলা বলে কি এখানেই পড়তে বসব?’ তবে মেলায় একটু ফাঁকা জায়গা পেলে সেখানে বসে পড়া শুরু করে দিতেও দেখা গিয়েছে অনেককে।

মাঝেমধ্যেই অভিনব ঘোষণার মাধ্যমে বইপ্রেমীদের কৃতজ্ঞতা জানাতে শোনা গেল মেলা আয়োজকদের। গিল্ড হাউস থেকে মাইকে বলা হচ্ছিল, ‘রবিবার দুপুরের মাংস-ভাত ছেড়ে আপনারা যেভাবে বইয়ের জন্য লাইন দিয়েছেন, তা অভূতপূর্ব।’ সন্ধ্যায় বিদ্যাসাগর কলেজের ১৯৯৯ ব্যাচের বেশ কয়েকজন সহপাঠীর দেখা হয়ে গিয়েছে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নে। চুলে পাক ধরা প্রৌঢ়-প্রৌঢ়ারা যেন ফিরে পেয়েছেন কলেজ-জীবনের এক টুকরো বিকেল। মেলার মাইকে তখন শোনা যাচ্ছে মান্না দে-কে! গাইছেন, ‘আবার হবে তো দেখা…!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ