সংবাদদাতা, সিউড়ি: ১২টার মধ্যে কাজ সেরে আদালত চত্বর ফাঁকা করে দিন, আদালত চত্বরে বোমা রাখা আছে’-এমনই হুমকি ইমেল আসতেই বুধবার সিউড়ি আদালত চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়াল। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি আদালত চত্বরে পুলিশ পৌঁছায়। মেটেল ডিটেক্টর দিয়ে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানো হয় আদালত চত্বর। যদিও প্রায় দু’ঘণ্টার অধিক সময় তল্লাশি চালানোর পরও কোনো বোমার হদিশ মেলেনি। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারও রাজ্যজুড়ে একাধিক আদালতে বোমাতঙ্কের ঘটনা ঘটে। তারপরের দিনই এই আদালতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
এদিন এই খবর পেয়ে আনুমানিক সকাল ১১টা নাগাদ সিউড়ি আদালত চত্বরে ডিএসপি(ট্রাফিক) কুণাল মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালায়। জেলা জজের এজলাস, পকসো আদালত, সিজেএম আদালত সহ গোটা আদালত চত্বরে তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় দু’ঘণ্টারও অধিক সময় ধরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। যদিও কোনো বোমার হদিশ মেলেনি।
সিউড়ি আদালতের পিপি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা সকালে এসে শুনলাম জজ সাহেবের কাছে একটি হুমকি মেল এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে, ১২ টার মধ্যে কাজ শেষ করে যেন আদালত ফাঁকা করে দেওয়া হয়। কারণ আদালতে বোমা রাখা আছে। যে কোনো সময় বোমা বিস্ফোরণ হতে পারে। এরপরেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সিউড়ি আদালতের আইনজীবী দেবরাজ চক্রবর্তী বলেন, শুনলাম বোমা সংক্রান্ত কোনো হুমকি এসেছে। তবে, স্পষ্ট কেউ কিছু বলছে না। আর বোমা মানেই তো আতঙ্কের ব্যাপার। আর আদালতে তো অনেক মানুষ এসে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কের ব্যাপার। আর এক আইনজীবী অনুশ্রী মণ্ডল বলেন, আমরা খুবই আতঙ্কিত। তবে, পুলিশ যথেষ্ট তৎপরতার সঙ্গে তল্লাশি চালিয়েছে। তবে, কিছু পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে জেলা জজের কাছে একটি হুমকি মেল আসে। এরপরেই সেই খবর যায় পুলিশের কাছে। তারপরেই পুলিশের পক্ষ থেকে তৎপরতা দেখা যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই হুমকি মেল কে বা কারা পাঠাল, তার জন্য রাজ্য সাইবার ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, একটি হুমকি মেল এসেছিল। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আদালত চত্বরে গিয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। নিজস্ব চিত্র