সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সামশেরগঞ্জের দেবিদাসপুরে একটি কেনা বাড়ির দখল নিতে গেলে ঝামেলা বাধে। স্থানীয় এক যুবক বাড়ির বর্তমান মালিককে ঘরে প্রবেশ করতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। তা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা চরমে ওঠে। শুরু হয় বোমাবাজি। বোমা ফেটে জখম হয় দুই শিশু। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় লোকজন দুই শিশুকে উদ্ধার করে অনুপনগর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে তাদের জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছে। অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিস। সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, একটি বাড়ি নিয়ে দু’টি পরিবারের মধ্যে গন্ডগোল। বোমা ফেটে দুই শিশু জখম হয়েছে, জখমদের চিকিৎসা চলছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, মাস খানেক আগে স্থানীয় এক ব্যক্তিছ থেকে শরীফ শেখ একতলা একটি বাড়ি কেনেন। এতোদিন বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। এদিন সকালে বাড়ির বর্তমান মালিকের পরিবারের সদস্যারা ওই বাড়িতে যান। তাঁরা বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয় এক বাসিন্দা তাঁদের বাধা দেয় বলে অভিযোগ। তা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। বাড়িটি যাঁরা কিনেছেন, তাঁদের কাছে বৈধ প্রমাণপত্রও রয়েছে বলে জানান মালিক। কিন্তু ওই যুবক কোনও কথা শুনতে চায়নি। এই বাড়িতে তাঁদের কিছুতেই প্রবেশ করতে দেবে না, বলে সে জানায়। জোর করে বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেয় অভিযুক্ত যুবক। তারপরই দু’ পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। আচমকাই ওই যুবক বাড়ির মালিককে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে। পাশের একটি কোচিং সেন্টারে জনা পঞ্চাশ ছেলেমেয়ে টুইশন পড়ছিল। গন্ডগোল শুরু হতেই ছেলেমেয়েরা ভয়ে সেন্টার থেকে বাড়ি চলে যাচ্ছিল। এমন সময় একটি বোমা এসে শিশুদের কাছে পড়ে। বোমাটি ফেটে দুই শিশু ছাত্রী জখম হয়। বোমার আঘাতে দু’টি শিশুরই হাত, পা ও মুখে আঘাত লাগে। বাড়ির মালিক শরিফ শেখ বলেন, মাসখানেক আগেই আমি বাড়িটি কিনেছি। এদিন সকালে বাড়িটি দেখতে গেলে স্থানীয় এক যুবক বাধা দেয়। সে কোনও কথাই শুনতে চায়নি। আমরা ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে আমাদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। ওর হয়তো বাড়িটি জবরদখল করার পরিকল্পনা রয়েছে। কোচিং সেন্টারের শিক্ষক বাসিরুদ্দিন আহমেদ বলেন, সেন্টারের পেছনে ঝামেলা চলছিল। এখানে ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে। গন্ডগোল শুরু হওয়ায় একে একে ছেলেমেয়েদের ছেড়ে দিচ্ছিলাম, একটুপরই খবর পাই দু’টি ছাত্রী বোমার আঘাতে জখম হয়েছে। একজন একটু বেশি জখম হয়েছে।



