সংবাদদাতা, ডোমকল: শনিবার গভীর রাতে ডোমকল টাউন তৃণমূল সভাপতি কামরুজ্জামান মণ্ডলের বাড়ি লক্ষ্য করে সকেট বোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বোমা ছোড়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যেই ডোমকল থানার পুলিস পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে রবিবার বিকেল পর্যন্ত টাউন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বা তাঁর পরিবারের তরফ থেকে এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানিয়েছে পুলিস। সূত্রের খবর, একসময় কংগ্রেস করতেন কামরুজ্জামান। পরে দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। বছর কয়েক আগে ডোমকল টাউন তৃণমূলের সভাপতি হন তিনি। ডোমকল পুরসভার বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী টুলুয়ারা বিবি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলারও ছিলেন। একটা সময়ের ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হলেও বর্তমানে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ডোমকল পুরসভার বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলর সহ কামরুজ্জামান পুরসভায় একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহলে সরব হন। সম্প্রতি দু’তরফের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাদা ছোড়াছুড়ি চলছিল। এই অবস্থার মধ্যেই শনিবার রাতে ডোমকলের কুঠির মোড়ে কামরুজ্জামানের বাড়ি লক্ষ্য করে একটি সকেট বোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বোমাটি তাঁর বাড়ির সিঁড়ি ঘরের কাছে ফেটেছে বলে দাবি তাঁর। যদিও বোমার আঘাতে পরিবারের কারও কোনও ক্ষতি হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তিনি বলেন, আমার অনুমান আমাকে এবং আমার পরিবারকে আতঙ্কিত করার জন্যই রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা বোমা মেরেছে। তবে এই দুষ্কৃতী দল সুযোগ পেলে আমার উপর প্রাণঘাতী হামলা করতে পারে। বাড়িতে হামলার ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনও কোন্দলের সম্পর্ক নেই । সম্প্রতি স্থানীয় কিছু লোকজন সমাজমাধ্যমে আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন কথা লিখছেন। তাঁরাই এই কাজ ঘটিয়ে থাকতে পারে। এরা তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত বললেও ভুল হবে আবার না বললেও ভুল হবে। এরা সব দুষ্কৃতী। স্থানীয় বাসিন্দা দিপালী কর্মকার বলেন, রাত দু’টো নাগাদ প্রচণ্ড জোরে একটা শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম কোনও গাড়ির টায়ার ফেটেছে। সকালে জানতে পারি কামরুজ্জামানের বাড়িতে কেউ বা কারা বোমা মেরেছে।



