Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেললাইনে উদ্ধার তরুণীর দেহ, গলায় ভোজালির কোপ, ফুটেজের যুবক কে? রহস্য

ব্রেস ব্রিজ ও সন্তোষপুর স্টেশনের মাঝে রেল লাইনের পাশে তরুণীর দেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য ছড়িয়েছে। রিঙ্কু সমাদ্দার (৩৮) নামে ওই মহিলার গলায় ভোজালির কোপ দেওয়া হয়।

রেললাইনে উদ্ধার তরুণীর দেহ, গলায় ভোজালির কোপ, ফুটেজের যুবক কে? রহস্য
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ব্রেস ব্রিজ ও সন্তোষপুর স্টেশনের মাঝে রেল লাইনের পাশে তরুণীর দেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য ছড়িয়েছে। রিঙ্কু সমাদ্দার (৩৮) নামে ওই মহিলার গলায় ভোজালির কোপ দেওয়া হয়। খোয়া গিয়েছে তাঁর লাগেজ। ২৮ আগস্ট মুম্বই থেকে কলকাতায় পা রাখতেই তিনি খুন হন। কিন্তু কে বা কারা তাঁকে খুন করল, যাদবপুরে বাড়ি না গিয়ে কেন তিনি ব্রেস ব্রিজ গেলেন, জানার চেষ্টা করছেন রেল পুলিশের অফিসাররা। বারবার নোটিশ পাঠানোর পরও রিঙ্কুর স্বামী তদন্তকারীদের মুখোমুখি না হওয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

Advertisement

যাদবপুরের বাসিন্দা রিঙ্কু স্বামীর সঙ্গে মুম্বইয়ে থাকেন। দম্পতি চাকরি করতেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে। ২৮ আগস্ট গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসে একা মুম্বই থেকে কলকাতায় ফেরেন রিঙ্কু। ওইদিন রাত ন’টা নাগাদ ব্রেস ব্রিজ ও সন্তোষপুর রেল স্টেশনের মাঝে রেল লাইনের পাশে তাঁর দেহ পাওয়া যায়। গলায় ভোজালি দিয়ে বারবার আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে মহেশতলা থানা বিষয়টি জানতে পারে। এলাকা রেল পুলিশের হওয়ায় বালিগঞ্জ জিআরপিকে জানানো হয়। আধার কার্ড দেখে তরুণীর পরিচয় জানা যায়। দিদি নিভা সিং এসে বোনকে চিহ্নিত করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে রেল পুলিশ খুন ও চুরির মামলা রুজু করে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রিঙ্কুর গলায় একাধিকবার ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে।
সাঁতরাগাছি স্টেশনের সিসি ক্যামেরায় তরুণীকে নামতে দেখা গিয়েছে। এক যুবকের সঙ্গে প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে ট্যাক্সিতে চাপেন। শিয়ালদহ স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও দেখা যায়, তরুণী ওই যুবকের সঙ্গে বজবজ লোকালে উঠছেন। ব্রেস ব্রিজে নামার ছবিও ক্যামেরায় ধরা পড়ে। রেল লাইনের পাশে থাকা একটি অফিসের সিসি ক্যামেরায় দু’জনকে রেল লাইনে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন তারপরেই খুন হয়েছেন তরুণী। তাঁর সঙ্গে থাকা যুবকই খুন করে সঙ্গে থাকা লাগেজ নিয়ে পালিয়েছে। রিঙ্কুর সঙ্গে থাকা ওই যুবকের পরিচয় কী, জানার চেষ্টা চলছে।  রিঙ্কু একা কলকাতায় এলেন কেন বা পরিবারিক কোনও অশান্তি হয়েছিল কি না জানতে তাঁর স্বামীকে দু’বার নোটিশ পাঠিয়ে ডেকে পাঠানো হলেও আসেননি। স্ত্রীকে খুনের জন্য তিনি ওই যুবককে ভাড়া করছিলেন কি না, সেটা জানতে তাঁর কল ডিটেইলসও তদন্তকারীদের নজরে। অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে রিঙ্কুকে ওই যুবক খুন করেছে কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ