নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রবিবার সকালে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেতে উঠল দুর্গাপুরের অমরাবতী এলাকা। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম ভৈরব ক্ষেত্রপাল (২৩)। বাড়ি অমরবতী ভ্যাম কলোনিতে। প্রেমিকার দিদির বাড়ির অদূরে একটি জঙ্গল এলাকায় ভৈরবের দেহ পাওয়া যায়। আবার নিজের বাড়ি থেকেও ঘটনাস্থলটি খুব কাছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, প্রেমিকা ও তাঁর আত্মীয়রা মিলেই ভৈরবকে খুন করেছে। তারপরই উত্তেজিত জনতা অমরাবতীতে থাকা প্রেমিকার দিদির বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বাড়ির দরজা আটকে থাকলেও রক্ষা পাননি কেউই। দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে সকলেই। আসবাবপত্রও তছনছ করে দেওয়া হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে র্যাফ, কমবাট ফোর্স সহ বিশাল পুলিস বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে কোনওরকমে প্রেমিকার দিদি ও জামাইবাবুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ভৈরব। দুর্গাপুরের নিউটাউনশিপ থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করে পরিবার। যুবকের বাড়ির লোকজন প্রেমিকা ও তাঁর দিদির বাড়িতে বার বার গিয়ে খোঁজ করতে থাকেন। পুলিসকেও দু’জনের সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি জানানো হয়। এদিন সকালে যখন দেহ উদ্ধার হয় তখন অনেকেই দাবি করেন, প্রেমিকার দিদির বাড়িতেই যুবককে খুন করা হয়েছে। সুযোগ বুঝে ওই এলাকার অদূরে থাকা জঙ্গলে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই আক্রোশেই গাড়ি, সাইকেল, বাড়ির আসবাব ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এসিপি পিন্টু সাহা বলেন, অস্বাভাবিক মৃত্যু সংক্রান্ত একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট খুনের অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা একজনের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমরা তাঁদের উদ্ধার করে থানায় রেখেছি।
তেহট্টে শিশুর প্লাস্টিকবন্দি দেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে দম্পতিকে পিটিয়ে খুন করে জনতা। এদিন দুর্গাপুরেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়। পুলিসের তৎপরতায় কোনওমতে প্রাণে বাঁচে ভৈরবের প্রেমিকার দিদির বাড়ির লোকেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভৈরব এলাকায় মিশুকে, ভালো ছেলে বলে পরিচিত। পরিশ্রুত পানীয় জল ভর্তি জার বাড়ি বাড়ি বিক্রি করতেন তিনি। তিন দিদির ঘরে একমাত্র ভাই ছিলেন ভৈরব। হাসিখুশি সেই ছেলে বুধবার হঠাৎই বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। নিজের মোবাইলটাও বাড়িতে রেখে গিয়েছিল। রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে নিউ টাউনশিপ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। সমবয়সী এক আত্মীয় জানান, ভৈরব যাঁকে ভালোবাসত, তাঁর বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাঁকে সঙ্গে নিয়েই প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। তখনই তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। মৃতের দিদি সীমা ক্ষেত্রপাল বলেন, ‘মেয়েটির বাড়ি দুর্গাপুরের মায়াবাজার এলাকায়। ওর দিদির বাড়ি আমাদের এখানে। দিদির বাড়িতে মেয়েটি থাকত। সেই থেকেই প্রেমের সূত্রপাত। নিখোঁজের পর মেয়েটির বাড়ি ও তাঁর দিদির বাড়ি গিয়েছিলাম। তাঁরা আমাদের কোনও সাহায্য করেননি। তারপরই অমরবতী এলাকার পাশেই থাকা জঙ্গলের একটি সরু ডালে ভৈরবের দেহ উদ্ধার হয়।’ মৃতের আত্মীয় মিঠু বাউরি, রীমা বার্নওয়ালদের অভিযোগ, ‘ভৈরবকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। ওদের ফাঁসি চাই।’ যদিও পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, প্রেমে আঘাত খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তা হলেও সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিস।-নিজস্ব চিত্র