Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তালিতে আদিবাসী গৃহবধূর দেহ উদ্ধার, ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ

বর্ধমানে তালিতে এক আদিবাসী গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার। ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তদন্ত করছে। বিস্তারিত পড়ুন।

তালিতে আদিবাসী গৃহবধূর দেহ উদ্ধার, ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মঙ্গলবার সকালে তালিতে খালের ধারে এক আদিবাসী গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই গৃহবধূ সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি করেও তাঁকে পাননি। এদিন সকালে স্থানীয়রা মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজনদের খবর দেয়। মৃতার স্বামীর দাবি, তাঁকে ধর্ষণ করে মারা হয়েছে। শরীরে আঁচড়ের দাগ রয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। পরিবারের লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে দু‌’জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ৪২ বছরের ওই গৃহবধূর সঙ্গে মদ্যপান করেছিল। অন্যজন টোটো চালক।

Advertisement

মৃতার স্বামী বলেন, সোমবার বিকালে আমরা বাড়ির পাশে মাঠে মদ্যপান করেছিলাম। সেখানে স্ত্রী এবং আমাদের পরিচত এক যুবক ছিলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত মদ্যপান করার পর স্ত্রী বাড়ি ফিরে যান। তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। তখনো আমি বাড়ি ফিরেনি। পরে বাড়ি ফিরে জানতে পারি, স্ত্রী আমার খোঁজ করার জন্য আবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। তাঁকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে বেরিয়ে যাই। সারারাত ধরে খোঁজাখুজি করেও তাঁকে পাইনি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে খালের মধ্যে স্ত্রীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি। মৃতদেহ উপুড় হয়ে ছিল। শরীরে আঁচড়ের দাগ রয়েছে। আমাদের অনুমান তাঁকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে মদ খাওয়া ওই যুবক এই কাণ্ড করতে পারে। 
মৃতার ভাই বলেন, দিদি অনেক দিন ধরেই মদ্যপান করতেন। ১৯ বছরের ওই যুবকও তাঁর সঙ্গে হামেশাই মদ্যপান করত। আমাদের সন্দেহ, সে-ই তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করেছে। দেওয়ানদিঘি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, ওই গৃহবধূ অতিরিক্ত মদ্যপান করে ক্যানেলের কাছে বসেছিলেন। ওই যুবক তাঁকে টোটোয় তুলে বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করেন। সেই সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে, অতিরিক্ত মদ্যপান করার জন্য স্রেফ অসুস্থতার কারণে তিনি মারা গিয়েছেন, না অন্য কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। পুলিশ পরিবারের লোকজনদের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। আটক যুবক ও টোটো চালককেও দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট দেখা হবে। পরিবারের লোকজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে আপাতত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মৃতার স্বামী বলেন, স্ত্রী অতিরিক্ত মদ্যপান করলেও তাঁর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষ্মণ দেখা যায়নি। তিনি বাড়িতে এসে শুয়ে পড়েছিলেন। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও ঘুমিয়েছিলেন। সেই সুযোগে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে।
 ঘটনার তদন্তে পুলিশ। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ