নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শুক্রবার দুপুরে আগরপাড়ার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম গুলশন কুমার (২০)। তাঁর বাবার নাম ভগবান যাদব। বাড়ি বিহারের রোহতাস জেলায়। পুলিশ ফ্ল্যাটের একটি ঘরের দরজা ভেঙে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রেম ঘটিত কোনও কারণে মানসিক অবসাদে পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কমিউনিকেশন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র গুলশন। তিনি দুই বন্ধুর সঙ্গে আগরপাড়া নর্থ স্টেশন রোডের আবাসনে ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই ছাত্ররা ফ্ল্যাটে মাস তিনেক আগে ভাড়ায় এসেছিলেন। ফ্ল্যাটটি দু’কামরার। একটি ঘরে একা থাকতেন গুলশন। অন্য ঘরে তাঁর দুই বন্ধু থাকতেন। দুপুরে ফ্ল্যাটের দরজায় বার বার ধাক্কা দিয়েও গুলশনের সাড়া পায়নি তাঁর দুই বন্ধু। তাঁরা বিষয়টি ফ্ল্যাটের মালিককে জানান। দুপুর ১টা নাগাদ পুলিশ ফ্ল্যাটে পৌঁছয়। দরজা ভেঙে ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। ফ্যান থেকে গামছা বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল দেহ। দ্রুত তাঁকে খড়দহের বলরাম সেবা মন্দির স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, গুলশনের সঙ্গে বিহারের শাসারামের এক যুবতীর সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় মানসিক অবসাদে ছিল পড়ুয়া। তবে এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মেঝের উপর পড়ুয়ার ফোন পড়েছিল। সেটি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তিনি শেষবার কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, কোনও ভিডিও কল হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফ্ল্যাটে থাকা তাঁর বন্ধুর বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, ভিডিওগ্রাফি করে ওই বন্ধ কামরার দরজা ভাঙা হয়েছে। নিয়ম মেনে মৃতদেহ উদ্ধারের সময়ও ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।