সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: পারিবারিক অশান্তির জেরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয় পশ্চিম বন্দর থানা এলাকার নদী থেকে। মৃতার নাম অভিলাষা রায় নস্কর (৩১)। বাড়ি বাউড়িয়া থানার পশ্চিম বুড়িখালি এলাকায়। গৃহবধূর বাড়ির লোকেরা তাঁর স্বামী দেবজ্যোতি নস্কর, শ্বশুর রতন নস্কর এবং শাশুড়ি বেলা নস্করের বিরুদ্ধে বাউড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দেবজ্যোতি ও রতন নস্করকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও অপহরণের মামলা রুজু হয়েছে। আদালতে তোলা হলে বিচারক দেবজ্যোতির চারদিন পুলিশ হেপাজত ও রতনবাবুর ১৪ দিন জেল হেপজেতের নির্দেশ দিয়েছেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দেবজ্যোতি ও অভিলাষা বহরমপুর মেডিকেল কলেজে ল্যাব টেকনিসিয়ানের কাজ করতেন। সেই সূত্রে দু’জনের বিয়ে হয়। বিয়ের আগেই অভিলাসা চাকরি ছেড়ে দেন। তাঁদের একটি তিন বছরের ছেলে আছে। মৃত গৃহবধূর আত্মীয় নবনীতা সরকার জানান, রবিবার বিকালে দেবজ্যোতি শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানান যে, ছেলেকে ঘুম পাড়ানো নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়েছিল। তার জেরে অভিলাষা ফোন বাড়িতে রেখে বেরিয়ে গিয়েছে। এরপরেই আমরা বাউড়িয়া থানার জন্য রওনা দিই। নবনীতার অভিযোগ, অভিলাষার উপর ওঁর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতেন। তিনি বলেন, আমরা থানায় এসে শুনি কেউ একজন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এর মধ্যে আমরা বোনের কোনো খোঁজ না পেয়ে বাউড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। পরে সোমবার বেলায় বোনের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা আমরা জানতে পারি। অভিলাষাকে ওঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা খুন করে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নবনীতা। তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।