নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রাস্তার ধারে দাঁড় করানো রয়েছে একটি স্কুটার। হলুদ রঙের ওই স্কুটারের পিছনের দিকে চাপ চাপ রক্তের দাগ। আশপাশে কেউ নেই। স্কুটার থেকে কিছুটা দূরে পড়ে রয়েছে রক্তমাখা চটি। উদ্ধার হয় একটি হেডফোনও। সন্দেহ হয় গ্রামবাসীদের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি চালায় পুলিস। শেষমেশ কাছেই একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হয় এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মৃতদেহ। তাঁর গলায় গভীর ক্ষত।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পারে, মৃতের নাম শ্রীমন্ত পোড়া। বয়স ৪৮ বছর। পাণ্ডুয়া থানা এলাকার চাঁদপুরের বাসিন্দা তিনি। পেশায় রাজমিস্ত্রি। বর্তমানে তিনি চণ্ডীতলা থানা এলাকার কুমিরমোড়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে থাকতেন। রবিবার রাতে বাড়ি থেকে প্রায় সাত কিমি দূরে শ্রীমন্তের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল কুমিরমোড়া-জনাই রোডের হাটপুকুর এলাকা। রাতের অন্ধকারে ডোবা থেকে রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিস সূত্রে খবর, ভাঙা বোতল জাতীয় কিছু দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে শ্রীমন্তকে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে রক্তমাখা একটি ভাঙা বোতল। অ্যাসিড জাতীয় কোনও তরল ছিল তাতে। ভাঙা বোতলটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। তবে মেলেনি মৃতের মোবাইল ফোন। ইতিমধ্যেই খুনের মামলা রুজু করেছে চণ্ডীতলা থানার পুলিস। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ খুন হয়েছেন তিনি। সেই সময় ওই চত্বর ফাঁকাই থাকে। চণ্ডীতলা থানার পুলিস জানিয়েছে, কী কারণে খুন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ, তা তদন্ত করে দেখছেন পুলিস আধিকারিকরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর তিনেক আগে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন শ্রীমন্ত পোড়া। তাঁর এই পক্ষের স্ত্রীর নাম টুম্পা ক্ষেত্রপাল। তিনি পাণ্ডুয়ার মেয়ে। বিয়ের পর তাঁরা কুমিরমোড়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। জেরায় পুলিস জেনেছে, টুম্পারও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। দু’জনেরই প্রথমপক্ষের দু’টি করে সন্তান রয়েছে। যেহেতু উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে, তাই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি তদন্তের বাইরে রাখছে না পুলিস। তাই মৃতের স্ত্রী টুম্পাকেও সন্দেহের তালিকায় রাখছেন উর্দিধারীরা। তবে ঘটনার সময় শ্রীমন্তের স্ত্রী পাণ্ডুয়ায় বাপের বাড়িতে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। যা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরে। অর্থাৎ, স্ত্রীর পক্ষে খুন করা সম্ভব নয়। তাহলে কি তিনি কাউকে দিয়ে খুন করিয়েছেন, এই প্রশ্নও উঠেছে।
স্কুটারের পিছনে রক্তের দাগ থাকায় পুলিসের অনুমান, ‘খুনি’ শ্রীমন্তর পরিচিত বলেই মনে করা হচ্ছে। স্কুটারে বসে থাকা অবস্থাতেই রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব শেখ বলেন, রাতে আমরা হাটপুকুরের দিকে গিয়েছিলাম। সেখানে ফাঁকা স্কুটারে রক্তের দাগ দেখে সন্দেহ হয়। পুলিসকে খবর দিই। চণ্ডীতলা থানার পুলিস জানিয়েছে, মৃতের স্ত্রী সহ একাধিক সন্দেহভাজনকে জেরা করা হচ্ছে। বেশ কিছু সূত্র মিলেছে। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।