নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও চুঁচূড়া: শনিবার সকালে কলকাতা মেডিকেল কলেজের এক ডাক্তারির পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হল বাগবাজারের গঙ্গার একটি ঘাট থেকে। পুলিশ ও কলেজ সূত্রের খবর, সোহম বসাক নামে ওই মেধাবী পড়ুয়া মেডিকেলের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। বাড়ির কোন্নগরের কানাইপুর। হাসপাতালের ৫ নং গেটের উলটোদিকের গলিতে মেইন হস্টেলে থাকতেন। শুক্রবার গভীর রাতে (রাত দুটো নাগাদ) সোহম হস্টেলেরই দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া আকাশ রায়কে সঙ্গে নিয়ে বাগবাজারের কাছে কাশী মিত্র শ্মশানলাগোয়া গঙ্গার একটি ঘাটে গিয়েছিলেন। আকাশ না নামলেও সোহম সেই ঘাটে জলে নামেন। তিনি সাঁতার জানতেন না। রাতে ঘাটে থাকা কয়েকজন বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে সোহম ডুবে যান। গোটা ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। মেডিকেল কলেজ থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রী বাগবাজার ঘাট, হাসপাতাল ও মহম্মদ আলি পার্কলাগোয়া কলকাতা পুলিশ মর্গে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। রাত পর্যন্ত বাড়ির লোকজনের তরফে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে অভিযোগ জমা পড়েনি। তা সত্ত্বেও বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে সবদিক খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরা অকুস্থলে এসেছিলেন। অসমর্থিত সূত্রের খবর, সোহম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গঙ্গায় নেমেছিলেন। সাঁতারও জানতেন না। সম্ভবত সেজন্যই ডুবে যান। গোটা ঘটনায় শোকাহত পরিবার। সোহমের মা শুভ্রা বসাক বলেন, রাতেও ফোন করেছিল। ১২টা নাগাদ শেষ কথা হয়। এমন ঘটবে ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি। কলকাতা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা সকলে শোকাহত।
সূত্রের খবর, সোহমের বাবা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থায় কর্মরত। মা গৃহবধূ। মধ্যবিত্ত পরিবার। মেধাবী ছেলেকে নিয়ে অনেক আশা ভরসা ছিল। এদিন ভোরে মেডিকেলের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ শান্তনু সেন ঘটনার খবর পান। বাকিদের জানান। এদিকে ঘটনায় উদ্বিগ্ন হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, পড়ার চাপ ও কাজের ধরন, সমাজ-সংসারের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়ন সহ ব্যক্তিগত নানা কারণে ডাক্তারি পড়ুয়ারা অনেকেই নেশার আশ্রয় নিচ্ছেন। বিভিন্ন মেডিকেলের হস্টেলগুলি নেশার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে ডি অ্যাডিকশন এবং কাউন্সেলিং-এ কলেজগুলির গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তাঁরা। পাশাপাশি নেশার সামগ্রী আটকাতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কড়া অবস্থান নিতে হবে। সোহম বসাক। -ফাইল চিত্র