Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বধূর বাড়িতে প্রেমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, অগ্নিগর্ভ পাণ্ডবেশ্বর, ডিসি সহ জখম ৪ পুলিসকর্মী

বধূর বাড়িতে প্রেমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, অগ্নিগর্ভ পাণ্ডবেশ্বর, ডিসি সহ জখম ৪ পুলিসকর্মী
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: প্রেমিকার বাড়িতে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে উত্তপ্ত হল পাণ্ডবেশ্বর থানার কুমারডিহি গ্রাম। রুইদাসপাড়ায় ওই বাড়ি থেকে গ্রামের বছর ২২-এর যুবক পল্লব বাউরির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে পরিবার। এমনকী, পুলিস পরিবারকে না জানিয়ে কেন দেহ হাসপাতালে নিয়ে গেল তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা। পাড়ার লোকজন গৃহবধূর বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ি ও দোকান লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। একাধিক বাইক ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও ইট ও পাথর ছোড়া হয়। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের ডিসি অভিষেক গুপ্তা সহ চারজন পুলিসকর্মী জখম হন। এলাকা শান্ত করতে পুলিস লাঠিচার্জ ও ধড়পাকড় চালায়। 

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, দু’টি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেমিকা সীমা রুইদাস ও পেশায় টোটোচালক তার স্বামী সঞ্জয় রুইদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় বিশৃঙ্খলা পাকানো ও পুলিসকে মারধরের ঘটনায় দ্বিতীয় মামলাটি রুজু হয়েছে। তাতে ১০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসিপি পিন্টু সাহা বলেন, দু’‌঩টি মামলায় এখনও পর্যন্ত ১২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুবকের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পল্লবের সঙ্গে রুইদাসপাড়ার ওই গৃহবধূর বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বুধবার গভীর রাতে গৃহবধূর বাড়িতে যান ওই যুবক। ভোর ৩টে নাগাদ প্রেমিকার বাড়িতে তাঁর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে বলে পুলিস খবর পায়। পুলিসের দাবি, দেহ উদ্ধার করে দ্রুত দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। গৃহবধূ ও তার স্বামীকে আটক করা হয়। পুলিস প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে, ওই যুবক বাইক নিয়ে সেখানে আসে। প্রাচীর টপকে বাড়ির ভিতর ঢোকে। দোতলা বাড়ির উপরতলায় স্বামী, ছেলেকে নিয়ে থাকে গৃহবধূ। পাশের ঘরে থাকেন বধূর দেওর। প্রেমিক আসায় প্রেমিকাও নীচেরতলায় নেমে আসে। স্বামী ও ছেলের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। সেইসময় বধূর ছেলে উঠে পড়ায় বাবারও ঘুম ভেঙে যায়। বধূর স্বামী ভাইকে ডেকে ঘর থেকে বেরিয়ে নীচে এসে দু’জনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর পল্লবকে দরজা বন্ধ করে রাখা হয়। মৃতের পরিবার বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের কথা মেনে নিলেও তাদের অভিযোগ, ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, প্রেমিকার বাড়িতে কেন আত্মহত্যা করবে? পুলিস পরিবারকে না জানিয়ে দেহ নিয়ে চলে যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে এলাকার মানুষ। এরপরই শুরু হয় ইটবৃষ্টি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিশাল বাহিনী নিয়ে উত্তেজিত জনতার দিকে এগনোর চেষ্টা করেন ডিসি অভিষেক গুপ্তা। তখনই তাঁর মাথায় ইট লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ‘গ্যাসগান’ চার্জ করার নির্দেশ দিতে দেখা যায়। তারপরই পুলিস ব্যাপক লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এলাকার বাসিন্দারা চিৎকার করে দাবি করেন, এই গ্রামের দুই নাবালিকা দীর্ঘদিন নিখোঁজ। পুলিস কিছুই করেনি। অপরাধীদের আড়াল করতে চাইছে পুলিস।-

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ