নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না চার বছরের আয়ুশকে। শেষমেশ তাকে নিথর অবস্থায় পাওয়া গেল একটি ঝোপের মধ্যে। তার হাত বাঁধা ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডোমজুড় থানা এলাকার সলপের দাসপাড়া এলাকা থেকে ওই শিশুপুত্রের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিস। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে পুলিস জানিয়েছে, শেখ আয়ুশ নামের ওই শিশুটির মুখে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। তার হাত ও পিঠে রয়েছে ছ্যাঁকার দাগ। কে বা কারা এই একরত্তিকে নৃশংসভাবে খুন করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিন রাত পর্যন্ত কোনও সূত্র খুঁজে পায়নি পুলিস।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় চার বছরের এই শিশুটি। সেই সময় তার স্কুলে যাওয়ার কথা। কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। আশপাশে তন্নতন্ন খোঁজা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে খোঁজ চালানোর পর বেলা ১টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি মাঠের ধারে ঝোপের মধ্যে আয়ুশের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। শেখ রবিউল হাজি নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘বাচ্চাটির হাত পিছন দিক থেকে বাঁধা ছিল। মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমরা থানায় খবর দিই।’ ডোমজুড় থানার পুলিস এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শিশুটিকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান। হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘শিশুটিকে সম্ভবত শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে পাথর জাতীয় ভারী কিছু দিয়ে তার মুখে আঘাত করা হয়েছে। হাত ও পিঠের বেশ কিছু জায়গা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা যুক্ত, তা আন্দাজ করতে পারছেন না পরিবার বা স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউই। স্থানীয়দের কথায়, ওই পরিবারের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। শিশুটির বাবা শেখ বরকার নির্বিবাদী মানুষ। পুলিস সঠিকভাবে তদন্ত করলে অপরাধীদের নিশ্চয়ই ধরা যাবে। এদিকে, ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোকে কার্যত পাথর হয়ে গিয়েছেন মা-বাবা। ফলে তাঁদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।