Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পলি ক্লিনিকের ভিতর কর্মীর ঝুলন্ত দেহ! খবর চাউর হতেই বেপাত্তা চিকিৎসক-মালিক

পলি ক্লিনিকের ভিতর কর্মীর ঝুলন্ত দেহ! খবর চাউর হতেই বেপাত্তা চিকিৎসক-মালিক
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি শহরের পলিক্লিনিকের ভিতর কর্মরত অবস্থায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক কর্মীর। ঘটনা ঘিরে ধুন্ধুমার শহরে। রাহুল ঝাঁ (২৮) নামে ওই কর্মীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের। এই নিয়ে ওই পলিক্লিনিকের মালিক ও তাঁর স্ত্রীর নামে রবিবার জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। 

Advertisement

ঘটনার পর থেকেই ওই পলিক্লিনিকের মালিক, যিনি একজন চিকিৎসক সপরিবারে এলাকাছাড়া। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত। তিনি জানিয়েছেন, ওই পলিক্লিনিকটি আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, পলিক্লিনিকের মালিক ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এদিন বিকেলে রাস্তায় দেহ রেখে অবরোধ করেন মৃতের পরিজনরা। এনিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিস আসে। পুলিসের সামনেই ওই পলিক্লিনিকের সামনে দেহ রেখে অবরোধ, বিক্ষোভ চলতে থাকে। ঘটনার তদন্ত করে পদক্ষেপ নিতে দু'দিন সময় চায় পুলিস। কিন্তু মৃতের পরিজনরা সাফ জানিয়ে দেন, সময় দেওয়া যাবে না। কারণ, এটা নিছক সাধারণ আত্মহত্যা নয় বলে মনে করছেন তাঁরা। 

মৃতের বাবা শঙ্কর ঝাঁ’র অভিযোগ, পলিক্লিনিকের মালিক ও তাঁর স্ত্রী ছেলের উপর মারাত্মক মানসিক অত্যাচার করেছেন। যার জেরে হয়তো ছেলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। আবার এমনও হতে পারে, ছেলেকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সেকারণে ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করতে হবে। মৃতের পরিজনদের চাপে পড়ে এদিন বিকেলে তাঁদের সঙ্গে পলিক্লিনিকের মালিকের বাড়িতে যায় পুলিস। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর ফ্ল্যাটে তালা। মোবাইল স্যুইচ অফ থাকায় পলিক্লিনিকের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মোবাইলে মেসেজ করলেও মেলেনি জবাব।

মৃতের পরিবারের দাবি, জলপাইগুড়ি শহরের ওই পলিক্লিনিকে বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করতেন রাহুল। কিন্তু কর্মস্থলে যে এমন কিছু ঘটবে তা কোনওদিন ভাবতে পারেননি তাঁরা। মৃতের বাবা বলেন, শনিবার রাতে আমরা আচমকা খবর পাই, পলিক্লিনিকের ভিতরে ছেলেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। খবর পেয়েই ছুটে আসি আমরা। তাঁর দাবি, ছেলের উপর মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে জানতে পেরেছিলাম। আমাদের ধারণা, এর পিছনে কোনও অন্তর্নিহিত রহস্য রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে খুন করতেই ষড়যন্ত্র করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ