Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরীর হোটেলে রায়নার গৃহবধূ ও তাঁর প্রেমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

পুরীর হোটেলে রায়নার গৃহবধূ ও তাঁর প্রেমিকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। বৃহস্পতিবার পুলিস হোটেলের দরজা ভেঙে দু’জনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে।

পুরীর হোটেলে রায়নার গৃহবধূ ও তাঁর প্রেমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পুরীর হোটেলে রায়নার গৃহবধূ ও তাঁর প্রেমিকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। বৃহস্পতিবার পুলিস হোটেলের দরজা ভেঙে দু’জনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে। এক সপ্তাহ আগে বাপেরবাড়ি যাওয়ার নাম করে ওই গৃহবধূ বেরিয়েছিলেন। তারপর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ওইদিন পুরীর একটি হোটেল গৃহবধূ  মিতালি ঘোষ (২৮) ও তাঁর প্রেমিক কুমারীশ ঘোষের (২৯) মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে ওড়িশা পুলিস ফোনে পরিবারের লোকজনদের জানায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, দু’জনে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয়রা বলেন, পাশের গ্রামের যুবকের সঙ্গে গৃহবধূর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়। তা নিয়ে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে দু’বছর ধরে অশান্তি চলছিল। প্রায় ১০ বছর আগে রায়নার হরিহরপুর গ্রামের প্রশান্ত ঘোষের সঙ্গে বিয়ে হয় বাঁকুড়ার সোনামুখীর বাসিন্দা মিতালির। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে।

Advertisement

মিতালির স্বামী প্রশান্ত ঘোষ বলেন, গ্রামের লোকজনদের কাছ থেকে ওঁদের সম্পর্কের কথা দু’বছর আগে জানতে পেরেছিলাম। পরে বিষয়টি স্ত্রীর কাছে জানতে চাই। স্ত্রী বিষয়টি মানতে চাননি। স্ত্রী দাবি করেন, কুমারীশ তাঁকে হামেশাই বিরক্ত করে। প্রায় সময় ফোন করে। বিষয়টি নিয়ে কুমারীশের বাড়ির লোকজনদের সঙ্গেও কথা বলি। ওকে আমাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করা হয়। স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে ফল ভালো হবে না বলে জানানো হয়েছিল। স্থানীয়রা বলেন, দু’পক্ষ বসে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও তাদের সম্পর্কে ছেদ টানা জানা যায়নি। সরাসরি দেখা না করলেও  ফোনে যোগাযোগ রাখত।
প্রশান্তবাবু আরও বলেন, সাতদিন আগে মিতালি বাপের বাড়ি যাচ্ছি বলে বেরিয়েছিলেন। সেখানকার  একটি দোকানে আমার ফোন সারাতে দেওয়া হয়েছিল। সেটাই আনতে যাচ্ছি বলে স্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তাঁর কাছে অন্য আর একটি মোবাইল ছিল। সেটির সুইচ অফ থাকায় শ্বশুরবাড়িতে যোগাযোগ করি। সোনামুখীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সেখানে স্ত্রী যায়নি। তাকে তাঁরাও ফোনে পাচ্ছেন না। মৃতার ভাই  বৃন্দাবন ঘোষ বলেন, কোথাও দিদির খোঁজ না পাওয়ায় আমরা রায়না থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলাম। পরে জানতে পারি, বোন এবং কুমারীশ পুরীর একটি হোটেলে আছে। সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওড়িশা পুলিস প্রশান্তবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ