নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একই পরিবারের তিনজনের রহস্যমৃত্যু! বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল মা, বাবা ও ছেলের নিথর দেহ! মঙ্গলবার বেলায় হাওড়ার জগাছা থানার হাটপুকুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে। পুলিস জানিয়েছে, বলরাম খাঁ (৬৫), শেলি খাঁ (৫৭) ও সম্বৃত খাঁ (৩০)-এর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন সকালে ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে জগাছা থানায় খবর দেন প্রতিবেশীরা। পুলিস এসে দরজা ভেঙে তিনটি দেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কীটনাশক জাতীয় কোনও বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁরা। দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে তাঁরা এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। দেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
হাওড়ার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে রামরাজাতলা হাটপুকুর এলাকায় রয়েছে শিবালয় আবাসন। চারতলা সেই আবাসনের তৃতীয় তলের ফ্ল্যাটে থাকত খাঁ পরিবার। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গৃহকর্তা বলরামবাবু জীবন বিমার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী শেলিদেবী পোস্ট অফিসের এজেন্ট ছিলেন। ছেলে সম্বৃত অনলাইন ট্রেডিংয়ের কাজ করতেন। ইদানীং কাজকর্ম সেরকম না থাকায় বাড়িতেই থাকতেন সম্বৃত। বাবা-মায়ের রোজগারও পড়ে গিয়েছিল। তার উপর ফ্ল্যাট কিনতে ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া মোটা অঙ্কের ঋণের বোঝা ছিল। এই চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনজন একসঙ্গে আত্মঘাতী হন বলে প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছে পুলিস। শেলিদেবীর দিদি সাথী মিত্র বলেন, ‘আমাদের তিন বোনের মধ্যে শেলি সবথেকে ছোট। প্রতিদিন নিয়ম করে ওর সঙ্গে ফোনে কথা হতো। শেষ কথা হয়েছিল রবিবার। সোমবার রাতেও ফোন করেছিলাম। ফোন ধরেনি। সম্বৃতকেও কয়েকবার ফোন করি। কেউ ফোন না ধরায় সন্দেহ হয়।’ সোমবার সকাল ১০টায় শিবপুরের কাসুন্দিয়া থেকে হাটপুকুর চলে সাথীদেবী। আবাসনের বাসিন্দাদের নিয়ে ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে বহুবার ডাকাডাকি করেন। কেউ সাড়া না দেওয়ায় জগাছা থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিস এসে দরজা ভেঙে দেখে, ঘরে বিছানার উপর বলরামবাবু ও শেলিদেবীর দেহ পড়ে রয়েছে। পাশের ঘরে পড়ে রয়েছে তাঁদের ছেলের দেহ। তিনজনের মুখ থেকেই গ্যাঁজলা বের হচ্ছিল। ডাইনিং টেবিলের উপর থেকে একটি শিশি উদ্ধার করে পুলিস। তাতেই কীটনাশক জাতীয় বিষ থাকতে পারে বলে সন্দেহ পুলিসের। সেটিও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘ঋণের চাপ নিতে না পেরেই পরিবারের তিনজন একসঙ্গে আত্মঘাতী হলেন বলে মনে করা হচ্ছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাত্র তিন বছর আগে এই ফ্ল্যাটে এসে ওঠে পরিবারটি। বলরামবাবু ও তাঁর স্ত্রী সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মেলামেশা করলেও তাঁদের ছেলে কারও সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।