নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিয়ের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। তার মধ্যেই এক ঘর থেকে উদ্ধার হল স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ। শনিবার বিষয়টি জানাজানির পর শোরগোল পড়ে যায় দত্তপুকুরের নিবাধুই পূর্বপাড়া এলাকায়। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক অশান্তির জেরে দু’জনে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন বলে অনুমান পুলিশের। যদিও তা মানতে নারাজ গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোকজন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন ওই দম্পতি।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম প্রসেন দাস (২৭) এবং ঋতশ্রী দাস (২৩)। প্রসেন গাড়ি চালাতেন। ঋতশ্রীর বাপের বাড়ি হুগলির হিন্দমোটরে। বছরখানেক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন দু’জনে। প্রথম দিকে দুই পরিবারের আপত্তি থাকলেও পরে সম্পর্ক মেনে নেয় দু’পক্ষই। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়ের মাস দু’য়েক পর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু হয়। ঋতশ্রীর পরিবারের দাবি, শ্বশুর-শাশুড়ি ছাড়াও বাড়িতে থাকা বিবাহিত ননদ এবং তাঁর স্বামীর সঙ্গে ঋতশ্রীর প্রায়ই অশান্তি হত। মানসিকভাবে তাঁকে হেনস্তা করা হত বলেও অভিযোগ। বিষয়গুলি ফোনে বাপের বাড়ির লোকজনকে জানাতেন ঋতশ্রী। তবে সংসার টিকিয়ে রাখার কথা ভেবে তাঁকে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিতেন পরিবারের লোকজন।
ঋতশ্রীর বাবা রাজেশ পালের বলেন, শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধেই আমাদের অভিযোগ। অশান্তির মধ্যে আমার মেয়ের পাশাপাশি জামাইকেও মানসিকভাবে চাপে রাখা হত। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বাবার সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা হয় ঋতশ্রীর। পরে স্বামী-স্ত্রী খাওয়াদাওয়া সেরে ঘরে চলে যান। শনিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের ঘর থেকে বেরতে না দেখে ডাকাডাকি করেন বাড়ির লোকজন। সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে ঢুকে দেখা যায়, সিলিং ফ্যান থেকে দড়ির ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছেন দু’জনে। পুলিশ এসে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ ঋতশ্রীর পরিবার। তাঁর দিদি রাজশ্রীর দাবি, অশান্তির সময় ননদের স্বামী আমার বোনকে খুনের হুমকিও দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দু’জনে। প্রসেনের বন্ধু চিরঞ্জিৎ রায় জানান, বাড়ির অশান্তির কথা প্রায়ই বলতেন প্রসেন। বলতেন, এই অশান্তি আর নিতে পারছে না। আবার বলতেন, মরতে চাই না, বাঁচতে চাই। শ্বশুরবাড়ির লোকজন অবশ্য এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, দম্পতি আত্মঘাতী হয়েছেন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। ফাইল চিত্র