নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শুক্রবার আসানসোল উত্তর থানার ভানোরায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা ইসিএলের পরিত্যক্ত খাদান থেকে উদ্ধার হল দুই স্কুলপড়ুয়ার দেহ। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম অনুরাগ কুমার(১২) ও রিশু প্রসাদ(১২)। অনুরাগের বাড়ি জামুড়িয়া থানার এবিপিট এলাকায়। রিশুর বাড়ি আসানসোলের সুকান্ত ময়দানের কাছে। তারা আসানসোলের ইস্টার্ন রেলওয়ে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া। ওইদিন স্কুলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার নাম করে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তারপরই তাদের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিস স্থানীয়দের সাহায্যে গভীর খাদ থেকে দু’টি দেহ উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে এসে আত্মীয়-পরিজনদের পাশাপাশি কান্নায় ভেঙে পড়েন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। পাশাপাশি বাড়ছে ক্ষোভও। ইসিএল ওসিপিগুলি থেকে কয়েকশো কোটি টাকার কয়লা কেটে নেওয়ার পরও কেন বুজিয়ে দিচ্ছে না। কেনই বা সেগুলি তারের ফেন্সিং করে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে মানুষের তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ, এই কয়লা খাদানে পড়ে আগেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে। কেউ সেলফি তুলতে গিয়ে জলে তলিয়ে গিয়েছে। আবার অনেকে আত্মহত্যার জন্য একে সুইসাইড পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছে।
জানা গিয়েছে, অনুরাগ বাড়ি থেকে বাসে করেই আসানসোলের স্কুলে আসত। শুক্রবার সকাল ৮টায় তাকে বাসে চাপিয়ে দেন তার মামা কুণাল মাহাত। অনুরাগ বাড়ি থেকে স্কুলের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার নাম করে বের হয়েছিল। পুলিস সাড়ে ১০টা নাগাদ তার বাড়িতে ফোন করে দুঃসংবাদ দেয়। অনুরাগের ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ রিশুও সকালেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে স্থানীয় লোকজন খবর দেয় পরিত্যক্ত খাদানে দু’জন পড়ে গিয়েছে। পুলিস গিয়ে দেখে, খাদানের সামনে একটি স্কুলব্যাগ ও জুতো পড়ে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা মনে করছে, খুব সম্ভবত গভীর খাদানের নীল জলের সঙ্গে সেলফি নিতে গিয়েই দু’জনের এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। এই ঘটনা এখানে নতুন নয়, প্রায়ই এখানে জলে ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় যুবক সমর বাউরি দেহগুলি উদ্ধার করতে বড় ভূমিকা নেন। তিনি বলেন, এখান থেকে বহু মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। ইসিএলের উচিত, পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা বা খাদানটি ভরাট করে দেওয়া।
স্থানীয় কাউন্সিলার তথা আসানসোল পুরসভার বরো চেয়ারম্যান উৎপল সিনহা বলেন, ইসিএলের উদাসীনতায় এই পরিত্যক্ত খাদানে পড়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ইসিএল এলাকা ঘিরে দিক, নয়তো খাদান বুজিয়ে দিক। না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। এনিয়ে ইসিএলের সাতগ্রাম-শ্রীপুর এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার রবীন থৌনোগাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি। মৃত অনুরাগের মামা কুণাল মাহাত বলেন, আমার ভাগ্নে জলকে ভয় পেত। ছটঘাটে যেতে চাইত না। সে কেন অত গভীর খাদানে যাবে? আমি ওকে ৮টার সময় বাসে চাপাই। সাড়ে ১০টার মধ্যে দেহ উদ্ধার হল। এত দ্রুত কী করে ও ওখানে পৌঁছলো? স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তাপসী মজুমদার বলেন, আমরা মর্মাহত। বেদনা প্রকাশ করার ভাষা নেই। • নিজস্ব চিত্র