Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডে শনাক্ত পূর্ব মেদিনীপুরের ১৮ জনের দেহ

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের ১৮জনের দেহ শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারিভাবে তাঁরা মৃত হিসাবে চিহ্নিত হলেন।

নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডে শনাক্ত পূর্ব মেদিনীপুরের ১৮ জনের দেহ
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের ১৮জনের দেহ শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারিভাবে তাঁরা মৃত হিসাবে চিহ্নিত হলেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় নরেন্দ্রপুর থানা থেকে ওই ১৮জনের নামের তালিকা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে পৌঁছে যায়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দেহ পুড়ে যাওয়ায় চেনার মতো অবস্থায় ছিল না। তাই পরিবারের লোকজন ডিএনএ নমুনা দিয়েছিলেন। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৮জনের দেহ শনাক্ত হয়েছে। জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল বলেন, আমাদের জেলায় ১৮জনের দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। তাঁদের নামের তালিকা আমাদের কাছে এসেছে।

Advertisement

প্রসেনজিৎ ঘড়া, সন্দীপ মাইতি, কৃষ্ণেন্দু ধাড়া, গুরুপদ সাউ, বাসুদেব হালদার, বাসুদেব বেরা, বুদ্ধদেব জানা, কার্তিক জানা, নান্টু খাঁড়া, সুব্রত খাঁড়া, বিশ্বজিৎ সাউ, ক্ষুদিরাম দিণ্ডা, শশাঙ্ক জানা, বিমল মাইতি, জয়দেব মাজি, রামকৃষ্ণ মণ্ডল, সুজিত সিং এবং তপনকুমার দোলইয়ের দেহ শনাক্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই জেলায় ২২জন নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁশকুড়ার আটজন, তমলুকের সাতজন, ময়নার দু’জন, নন্দকুমার ব্লকের তিনজন ও সুতাহাটা ব্লকের দু’জন আছেন।
৪ফেব্রুয়ারি মোমো কোম্পানি ও ডেকোরেটর্স কোম্পানির তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে ১০লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়। রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার পিছু ১০লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। সরকারিভাবে মৃত ঘোষণা না হওয়ায় এতদিন সেই অনুদান আটকে ছিল। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে জেলার ১৮জনের দেহ চিহ্নিত হওয়ায় এবার মৃত্যু শংসাপত্র দিয়ে ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনের সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজের ব্যবস্থা করা হবে।
নিহত তপনবাবুর বাড়ি পাঁশকুড়ার রাধাবন গ্রামে। তিনি চৈতন্যপুর-১ পঞ্চায়েতে ২০১৩-’১৮ পর্যন্ত তৃণমূলের উপপ্রধান ছিলেন। প্রায় তিনবছর ধরে আনন্দপুরে ডেকোরেটর্স কোম্পানিতে কাজ করতেন। বাড়িতে স্ত্রী বর্ণালী ছাড়াও ১০বছরের মেয়ে ও আট বছরের ছেলে আছে। ডিএনএ রিপোর্ট মিলে যাওয়ার খবর আসার পরই পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। গুরুপদ সাউয়ের বাড়ি তমলুক ব্লকের শ্রীরামপুর-১ পঞ্চায়েতের তেলিপাড়া পূর্বপাড়ায়। পরিবারে স্ত্রী স্বপ্না সাউ এবং ছয় মেয়ে রয়েছে। তারমধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়েছে। চতুর্থ মেয়ে স্বাগতা এবার শ্রীরামপুর গার্লস থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। তার একটি হাত কব্জির উপর থেকে কাটা। স্বপ্নাদেবী বলেন, আমার স্বামী পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন। এখনও তিন মেয়ের বিয়ে দেওয়া বাকি। কীভাবে সংসার চলবে জানি না। নিহত জয়দেব মাজির বাড়ি পাঁশকুড়া থানার পূর্ব চিল্কা গ্রামে। বাসুদেব বেরার বাড়ি পাঁশকুড়া থানার পুরুষোত্তমপুর পঞ্চায়েতের চক গৌরাঙ্গ গ্রামে। শশাঙ্ক জানা ও ক্ষুদিরাম দিণ্ডার বাড়ি তমলুক ব্লকের শালিকা গড়চক গ্রামে। মৃত বুদ্ধদেব জানা ময়না থানার চিরঞ্জীবপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। কার্তিক জানার বাড়ি নন্দকুমারের দক্ষিণ নারিকেলদায়। নন্দকুমার ব্লকের বড়গোদা গ্রামের সন্দীপ মাইতি লেবার কন্ট্রাক্টর ছিলেন। এলাকা থেকে শ্রমিকদের খুঁজে ডেকোরেটর্স সংস্থায় নিয়ে যেতেন। ঘটনার ২৫দিন পর নিখোঁজদের বাড়িতে ডিএনএ রিপোর্ট মিলে যাওয়ার খবর পৌঁছানো শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জয়দেব মাজির স্ত্রী বুল্টি বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট মিলে যাওয়ার খবর এখনও আমাদের থানা থেকে জানানো হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ