নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্তমানে কর্মরত স্কুল শিক্ষকদেরও টেট-এ আবশ্যিকভাবে বসতে হবে। জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। খুব সম্ভবত এবছরেই আয়োজিত হতে পারে সেই প্রাথমিক টেট। কিছুদিন আগে এব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল স্কুলশিক্ষা দপ্তর। সূত্রের খবর, তারপরেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে শিক্ষাদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকারের সম্মতি থাকলে তারা তিনমাসের মধ্যেই টেট আয়োজন করতে পারে। তাতেই গোটা বিষয়টি অন্যদিকে মোড় নিয়েছে।
বৃহস্পতিবারই এই টেট আয়োজনে আপত্তি তুলে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষক সংগঠন। বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নামে একটি সংগঠনও বিভিন্ন জেলায় ডিআই অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে আধিকারিকদের স্মারকলিপি দেয়। দাবি উঠছে, জম্মু ও কাশ্মীর, তামিলনাড়ু সরকার টেট আয়োজনের পরিবর্তে আইনি পথে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই পথে হাঁটুক পশ্চিমবঙ্গও। রাজ্যের শিক্ষকমহলের বক্তব্য, নর্মাল সেকশনে নিযুক্ত শিক্ষকদের টেট-এ বসার কথাই নয়। এ নিয়ে অবশ্য কোনো আশ্বাস দিচ্ছে না সরকার। তাছাড়া, অন্যান্য শিক্ষকদের জন্য এনসিটিই-র বিশেষ ছাড় ছিল এ রাজ্যে। সেটা নিয়েও সরকার উচ্চবাচ্য করছে না। বরং, শিক্ষকদের আশ্বাস দিয়ে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী ১৪ সেপ্টেম্বর একটি অর্ডার বের করার কথা বললেও তা এখনও করে উঠতে পারেননি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও ভোটের আগে জানিয়ে ছিলেন, এরাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হবে। কিন্তু ককরোচ আন্দোলনের জেরে তিনিই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই এদিন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য সংশোধিত শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি। সবরকম রোস্টার মেনে এবং ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতাগুলির সমাধান করেই তা করা হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক, ভাষামাধ্যম ভিত্তিক এবং জাতিগত সংরক্ষণ উল্লেখ করে প্রকাশিত এই শূন্যপদের ভিত্তিতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগবে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর কোনো মেয়াদবৃদ্ধি হবে না। ফলে এই সময়ের মধ্যে নিয়োগ শেষ করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সামনে।