Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্যার ক্ষত সারলেও বাদামি শোষক পোকার আক্রমণে দিশেহারা কান্দির আমন চাষিরা

বন্যার ক্ষত সারলেও বাদামি শোষক পোকার আক্রমণে দিশেহারা কান্দির আমন চাষিরা
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: বন্যার কবল থেকে বাঁচানো গেলেও বাদামি শোষক পোকার আক্রমণে উজাড় হওয়ার জোগাড় আমন ধান। কীটনাশক স্প্রে করেও ধান বাঁচাতে না পারায় চাষিদের মাথায় হাত। ক্ষতিপূরণের জন্য রাজ্য সরকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন চাষিরা।
Advertisement
জেলায় সবচেয়ে বেশি আমন চাষ হয় কান্দি মহকুমায়। কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, এবছর গোটা মহকুমা এলাকায় প্রায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। তার মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় ২০ শতাংশেরও বেশি আমনের জমি বন্যায় ডুবে গিয়েছিল। ওইসব জমিতে কোনওভাবেই ফের চাষ করা যায়নি। তবে অনেক জমির ফসল বন্যার হাত থেকে বেঁচে গেলেও পোকার আক্রমণ থেকে নিস্তার পেল না। মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরবর্তীতে ও ধান পাকার সময় বাদামি শোষক পোকার আক্রমণ হয়েছে। চাষিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যা পরবর্তী ও ধানগাছে থর আসার সময় থেকেই পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। তবে ধান পাকার সময়ে পোকার আক্রমণ ব্যাপক বেড়ে গিয়েছে। পোকার আক্রমণে ধানগাছ বাদামি হয়ে যাওয়ার সঙ্গে ধানের শিসও বাদামি হয়ে যাচ্ছে ও কালশিটে পড়েছে। জমি থেকে খড় পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না।
ভরতপুর ১ ব্লকের রানিপুর গ্রামের উত্তরমাঠে প্রচুর জমিতে পোকার আক্রমণ হয়েছে বলে চাষিরা জানাচ্ছেন। গ্রামের চাষি আলাউদ্দিন শেখ বলেন, এবছর বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেলেও পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া গেল না। বিঘার পর বিঘা জমিতে বাদামি শোষক পোকার আক্রমণ হয়েছে। গ্রামের অপর চাষি খলিল শেখ বলেন, তিন বিঘে জমিতে চাষ করে তিন কাঠা জমির ফসল পেলাম না। মাঠের ধান মাঠেই নষ্ট হয়ে গেল। কীটনাশক স্প্রে করেও ফসল বাঁচানো গেল না। কান্দি ব্লকের আহিরিনগর গ্রামের চাষি সবুজ আলম বলেন, এই এলাকার প্রচুর জমিতে পোকার আক্রমণ হয়েছে। চাষিরা ধানের লাইন ফাঁক করে কীটনাশক স্প্রে করেও কিছু করতে পারলেন না।
ভরতপুর গ্রামের ক্যানেল পাড়ের উত্তরের প্রচুর জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চাষি নজরুল শেখ বলেন, এবছর আমন চাষ করে মুনাফা শূন্য। পোকার আক্রমণ গোটা মাঠে দেখা গিয়েছে। অনেক চাষি রাগের বশে জমিতে আগুন পর্যন্ত ধরিয়ে দিয়েছেন। তবে এই এলাকার কিছু ক্ষেত্রে কীটনাশক স্প্রে করে অল্পসল্প ফসল পেয়েছেন বলেও চাষিরা দাবি করেছেন। ভরতপুরের নতুনপাড়ার চাষি মনতোষ মণ্ডল বলেন, সময়মতো ও বারবার জমিতে স্প্রে করে জমির কিছুটা অংশের ফসল পাওয়া গিয়েছে। শুধু কীটনাশক স্প্রে করা নয়, তার সঙ্গে কৃষিদপ্তরের নির্দেশগুলিও মেনে চলেছিলাম। তিনি বলেন, জমির যে অংশে পোকার আক্রমণ হয়েছিল, সেই অংশের জমি থেকে বাকি অংশ ফাঁকা রাখার জন্য প্রায় দুই ফুট জমির ধান গাছ কেটে ফেলে দিয়েছিলাম। এরপর ফাঁকা অংশে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছিল। তবে বেশিরভাগ চাষি এই নিয়ম মেনে চলেননি বলে তাঁর দাবি।
এদিকে কান্দি ও ভরতপুর ১ ব্লক এলাকার মতো খড়গ্রাম ও বড়ঞা ব্লক এলাকাতেও প্রচুর পরিমাণ জমিতে পোকার আক্রমণ ঘটেছে। তাই এলাকার চাষিরা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন। যদিও কান্দি মহকুমা কৃষিদপ্তরের এক অধিকর্তা জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা আসেনি। ক্ষতিপূরণের নির্দেশিকা এলে চাষিদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ